নিজস্ব প্রতিবেদক মর্নিং বিডি ডট নিউজ।
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে বাগ্বিতণ্ডা ও ভিডিও ধারণকে কে ন্দ্র করে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে চান্দিনা উপজেলা ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন, দৈনিক মানবজমিনের দেবিদ্বার প্রতিনিধি রাসেল সরকার এবং ফেস দ্য পিপল অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রতিনিধি আব্দুল আলীম।
সাংবাদিক আব্দুল আলীম জানান, তাঁর এক আত্মীয়ের নামজারি-সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ঘোরাঘুরির পর বুধবার শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল। সেই শুনানিতে উপস্থিত থাকতে তিনি সহকর্মী রাসেল সরকারকে সঙ্গে নিয়ে ভূমি অফিসে যান। সাংবাদিক আলীম অভিযোগ করেন, সকাল থেকে অপেক্ষা করার পর দুপুরের দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরের কাছে শুনানি হবে কি না জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত আচরণ করেন। এ সময় এসি ল্যান্ডের আচরণ মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে এসি ল্যান্ডের নির্দেশে পুলিশ ডেকে এনে দুই সাংবাদিককে আটক করা হয় এবং তাদের হাতে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আব্দুল আলীম আরও দাবি করেন, থানায় নেওয়ার পর তাঁর মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় ফোনের লক খুলে ভেতরের ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সহকারি কমিশনার বা এসি (ল্যাণ্ড) ক্যাডার কর্মকর্তাদের একেবারে সুচনার পদ। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা চাকরিতে যোগদান করেই একেক জন নিজ কর্ম এলাকার রাজা বনে যান। সেখানে তাঁর রাজত্বে সবাইকে প্রজা জ্ঞান করেন। আর সে প্রজা যদি সাংবাদিকও হয় তাতেও হিসাবে নেওয়ার সময় থাকে না তাদের। নানাবিধ দুর্নীতি অনিয়মে জড়িত হলেও তাদের জবাবদিহির আওতায় নেওয়ার সুযোগ নেই। পুরো প্রশাসন যন্ত্র তাদের নিয়ন্ত্রণে। এ অবস্থায় কী চলতেই থাকবে? তা হলে গণতন্ত্র ও সুশাসনের এত গল্প কেন? জমিদারি শাসন ঘোষণা করলেই হয়।