• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
Headline
দিনাজপুরে শ্রমিক নেতা শেখ বাদশা গ্রেপ্তার: সড়ক অবরোধ, সংঘাত ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত। রামদাসপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ ভূমি অফিসের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিককে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্টের অভিযোগ দিনাজপুরে থানা চত্বরে সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধে থমকে গেছে জনজীবন ঝালকাঠিতে অচেনা কিশোরীর সন্ধান চাচ্ছে এলাকাবাসী বদলগাছীতে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগে ৩৪ যুবকের যোগদান দিনাজপুরে ২১৭ বস্তা স্যার জব্দ, আটক ১ গোমস্তাপুরে ইউএনও নির্দেশে ছুটির দিনে প্রতিবন্ধী ডাক্তার জরিপ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ৩৪০ পিস ইয়াবাসহ একজন আটক

বদলগাছীতে জমির খাজনা ইস্যুতে মাইকিং: জনসচেতনতা নাকি আইন অমান্য?

মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি: / ১৯১ Time View
Update : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জমির খাজনা প্রদানের নিয়ম পরিবর্তনের দাবিতে মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে হোসাইন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (টুটুল) (৬২) নামের এক ব্যক্তিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে মারধরের অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে প্রশাসন।

বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী হোসাইন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বদলগাছী উপজেলার কয়াভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে ‘রজনীগন্ধা ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার নামে মাত্র ৫ কাঠা জমি থাকলেও সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের আওতায় থাকা প্রায় ৯ একর জমির খাজনা পরিশোধ করতে তাকে চাপ দেওয়া হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে এবং বিষয়টি জনসাধারণকে অবহিত করতে তিনি ভূমি অফিসের সামনে মাইকিং করছিলেন। এ সময় তাকে জোরপূর্বক ইউএনও কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, কার্যালয়ে নেওয়ার পর তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং শারীরিকভাবে মারধর করা হয়। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার দিকে পেপারওয়েট নিক্ষেপ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওই ব্যক্তিকে কেবল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অফিসে আনা হয়েছিল। তার সঙ্গে কোনো ধরনের মারধর বা অসদাচরণ করা হয়নি।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, জনসমক্ষে মাইকিং বা লাউডস্পিকার ব্যবহার করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হয়। উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় থানার অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে।

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ও বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া উচ্চস্বরে শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া দণ্ডবিধির ২৬৮ ধারা (জনদুর্ভোগ সৃষ্টি) এবং ২৯০ ধারা অনুযায়ীও এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এককভাবে মাইক ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো আইন অমান্যের শামিল হতে পারে এবং এতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category