• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২০ অপরাহ্ন
Headline
দিনাজপুরে থানা চত্বরে সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধে থমকে গেছে জনজীবন ঝালকাঠিতে অচেনা কিশোরীর সন্ধান চাচ্ছে এলাকাবাসী বদলগাছীতে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগে ৩৪ যুবকের যোগদান দিনাজপুরে ২১৭ বস্তা স্যার জব্দ, আটক ১ গোমস্তাপুরে ইউএনও নির্দেশে ছুটির দিনে প্রতিবন্ধী ডাক্তার জরিপ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ৩৪০ পিস ইয়াবাসহ একজন আটক গাজীপুরের শ্রীপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে ২ স্কুলছাত্রের মৃত্যু লাখো মানুষের ঢল, মুখরিত চট্টগ্রাম | সফল হোক জশনে জুলুস—ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ৩৪০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের নতুন কমিটির অনুমোদন:আহ্বায়ক এ্যাড. দেলোয়ার ও সদস্য সচিব ছবি

বদলগাছী চাঁদপুর খাস হাটে খাজনা আদায় নিয়ে রহস্য রাজনৈতিক পরিচয়ে খাজনা আদায়ের দাবি, ইউএনওর বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র

মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি: / ৯২ Time View
Update : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার চাঁদপুর খাস হাটে সরকারি খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। খাজনা আদায়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এক সাবেক ছাত্রদল নেতার নির্দেশনায় কাজ করার দাবি করলেও উপজেলা প্রশাসন এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে হাটে গিয়ে দেখা যায়, খাজনা আদায়ের সময় কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দৃশ্যমান উপস্থিতি ছিল না। অথচ খাজনা আদায়কারীরা সাংবাদিকদের জানান, তারা সাবেক জেলা ছাত্রদল সভাপতি মামুনের নির্দেশনায় দায়িত্ব পালন করছেন।
খাজনা আদায়ের সঙ্গে যুক্ত সোহেল হোসেন ও বিপ্লব হোসেন বলেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মামুন ইউএনও অফিস থেকে হাটের লিজ নিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনায় আমরা খাজনা আদায় করছি।
এদিকে হাটের কোথাও সরকার নির্ধারিত খাজনার হার বা মূল্যতালিকা প্রদর্শন করা হয়নি। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা কত টাকা কোন খাতে দিচ্ছেন, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি হিসাবে ৪০ কেজিতে এক মণ ধরা হলেও হাটে ৪২ থেকে ৪৩ কেজিতে এক মণ হিসেবে কৃষিপণ্য কেনাবেচা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতি মণে অতিরিক্ত ২০ টাকা করে খাজনা আদায়ের অভিযোগও করেছেন তারা।
কৃষক সাকোয়াত, রবিউল ও লুৎফর রহমান অভিযোগ করে বলেন, অতিরিক্ত ওজন এবং অতিরিক্ত খাজনার কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
খাস খাজনা আদায়ের দায়িত্বে থাকা বালুভরা ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিনও বিষয়টি ইউএনওর এখতিয়ার বলে জানান।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, বিএনপি বা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা খাজনা আদায় করছে—এমন তথ্য আমার জানা নেই। এ ধরনের কাজ হওয়ার সুযোগও নেই।
ইউএনওর এই বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে খাজনা আদায়কারীদের বক্তব্যের অসঙ্গতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা না থাকে, তাহলে খাজনা আদায়কারীরা কার নির্দেশে দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রশাসনের অনুমোদন থাকলে তার নথিপত্র প্রকাশ করা উচিত।
মূল্যতালিকা না থাকার বিষয়ে ইউএনও জানান, আগামী মাসের মধ্যে তা টানানোর ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাস হাটে খাজনা আদায়ের পুরো প্রক্রিয়া, লিজ প্রদান, খাজনার হার নির্ধারণ, আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে যথাযথভাবে জমা হচ্ছে কি না এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category