আলমগীর হোসেন সাগর
স্টাফ রিপোর্টার :
গাজীপুরের শ্রীপুরে মেয়ের সংসারের ঝগড়া মেটাতে গিয়ে জামাতার লাঠির আঘাতে হাফিজ উদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার দারোগারচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাফিজ উদ্দিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত হাফিজ উদ্দিন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে। তিনি শ্রীপুরের মাওনা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করতেন।
জানা গেছে, হাফিজ উদ্দিনের মেয়ে ও তার স্বামী ফিরোজ দুজনই স্থানীয় কারখানায় চাকরি করেন। কয়েক মাস ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ফের তাদের মধ্যে ঝগড়া বাধে। একপর্যায়ে স্ত্রী তার বাবাকে ফোন করে তাকে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান।
খবর পেয়ে হাফিজ উদ্দিন ও তার ছেলে মেয়ের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেন তারা। একপর্যায়ে মেয়েকে বাবার সঙ্গে যেতে বাধা দেন ফিরোজ। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে ফিরোজ বাঁশের লাঠি দিয়ে শ্বশুর হাফিজ উদ্দিনকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন।
পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া আয়েশা বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনই কারখানায় কাজ করেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। মঙ্গলবার রাতে ঝগড়ার পর স্ত্রী তার বাবাকে ফোন করে নিয়ে যেতে বলেন। পরে বাবা ও ভাই সেখানে আসেন। একপর্যায়ে মারামারি হয়।
অপর এক ভাড়াটিয়া জানান, ফিরোজের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে কারখানা থেকে বাসায় ফিরে আসার পর তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে স্ত্রী বাবাকে ফোন করলে হাফিজ উদ্দিন ও তার ছেলে সেখানে যান। মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ফিরোজ বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে ফিরোজ শ্বশুরকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলে তার দাবি।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাখাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে বাঁশের আঘাতে শ্বশুরের মৃত্যু হয়েছে।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, এ ঘটনায় বাড়ির মালিক মনির হোসেনের স্ত্রী মিতু আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।