• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ন
Headline
দিনাজপুরে থানা চত্বরে সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধে থমকে গেছে জনজীবন ঝালকাঠিতে অচেনা কিশোরীর সন্ধান চাচ্ছে এলাকাবাসী বদলগাছীতে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগে ৩৪ যুবকের যোগদান দিনাজপুরে ২১৭ বস্তা স্যার জব্দ, আটক ১ গোমস্তাপুরে ইউএনও নির্দেশে ছুটির দিনে প্রতিবন্ধী ডাক্তার জরিপ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ৩৪০ পিস ইয়াবাসহ একজন আটক গাজীপুরের শ্রীপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে ২ স্কুলছাত্রের মৃত্যু লাখো মানুষের ঢল, মুখরিত চট্টগ্রাম | সফল হোক জশনে জুলুস—ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ৩৪০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের নতুন কমিটির অনুমোদন:আহ্বায়ক এ্যাড. দেলোয়ার ও সদস্য সচিব ছবি

কয়রায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কর্মী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা

মোঃ ফয়সাল হোসেন কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি:- / ৭২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

মোঃ ফয়সাল হোসেন কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি:-
খুলনার কয়রা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য কর্মী নিয়োগ পরীক্ষায় স্বেচ্ছাচারিতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, প্রাথমিক যাচাই-বাছাই, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণসহ বিভিন্ন ধাপে কর্তৃপক্ষের চরম স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। এ নিয়ে উপজেলা চত্বরে পরীক্ষা দিতে আসা নারী-পুরুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে রোববার দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত মহারাজপুর ইউনিয়নের সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনকারীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২৩ জুলাই দুপুরের পরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ইউনিয়ন সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও সেখানে প্রকাশের তারিখ হিসেবে ২১ জুলাই উল্লেখ করা হয়। আবেদনপত্র জমার শেষ সময় ছিল ২৫ জুলাই। ২৪ ও ২৫ জুলাই সরকারি ছুটি থাকায় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সত্যায়িত করতে চরম বিড়ম্বনায় পড়েন আগ্রহী প্রার্থীরা। ফলে অল্প সময়ের কারণে অনেক আবেদনকারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত করে জমা দিতে পারেননি। অপরদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে কতিপয় বিষয় অস্পষ্ট ছিল। আবেদনে এরিয়া নম্বর চাওয়া হলেও সেটা অফিস যেয়েও সংগ্রহ করতে পারেন নি প্রার্থীরা।
তাদের আরও অভিযোগ, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার তারিখ দুই দফা পিছিয়ে রোববার সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয় দুপুর ১২টার দিকে। এরপর দক্ষিণ বেদকাশী, উত্তর বেদকাশী ও মহারাজপুর ইউনিয়নের মোট ৩৩৩ জন আবেদনকারীর পরীক্ষা রাত ২টা পর্যন্ত চলে। এর মধ্যে ৬৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। রাত গভীর হয়ে যাওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেকেই পরীক্ষা না দিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে গভীর রাত পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়ায় পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। বেশি সমস্যায় পড়ে নারী প্রার্থীরা।
সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আমাদী ও কয়রা সদর ইউনিয়নের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় দুপুর পৌণে ১২টার দিকে। এছাড়া কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই আগের দিন অনুপস্থিত থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা শাহারুল ইসলাম সুজনকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেখা যায়। এ ঘটনাকে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অন্য পরীক্ষার্থীরা।
মহারাজপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীখোলা গ্রামের শাহাদাত হোসেন বলেন, “রাত ২টায় ভাইভা শেষ করে বাড়ি পৌঁছাতে রাত ৩টারও বেশি বেজে যায়। এত গভীর রাতে পরীক্ষা নেওয়া অযৌক্তিক। অনেক নারী পরীক্ষার্থীকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ইউএনও কার্যালয়ের বারান্দায় অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেকেই যানবাহন না পেয়ে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার হেঁটে বাড়ি ফিরেছেন।”
তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনকারী শারমিন আক্তার বলেন, “নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না। স্বামীর সূত্রে আমি মহারাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও প্রথমে আবেদন বাতিল করা হয়। পরে আপিলে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে আমাকে ভাইভায় ডাকা হয়। কিন্তু সারাদিন অপেক্ষার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাইভা বোর্ডে গিয়ে জানতে পারি আমার আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আমার ভাইভা নেয়া হয়নি।”
আরেক আবেদনকারী তানিয়া বলেন, “ কয়েকবার ভাইভার তারিখ পরিবর্তন হওয়ায় নতুন তারিখ জানা ছিল না। রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে জানতে পেরে তড়িঘড়ি করে না খেয়ে বের হই। সকাল থেকেই না খেয়ে অপেক্ষা করছিলাম। রাত ৯টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়ি। অনেক নারী পরীক্ষার্থী ছোট সন্তান বাড়িতে রেখে এসেছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার পর বাড়ি ফিরতে হয়েছে, যা নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।”
উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের আবেদনকারী হায়দার আলী বলেন, “আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সত্যায়িত করার কথা বলা হলেও আমার আবেদন জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সত্যায়িত না থাকার অজুহাতে বাতিল করা হয়েছে। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনার পরিচয় মিলেছে।”
কয়রা কেয়ার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলম বলেন, “সরকারি কাজে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এমন আচরণ জনগণের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দেয়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও নিয়োগ কমিটির সদস্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “২১ জুলাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা থাকলেও ওই সময় আমি জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণে ছিলাম। পাশাপাশি একজন আত্মীয়ের মৃত্যুজনিত কারণে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি।”
তবে গভীর রাত পর্যন্ত পরীক্ষা গ্রহণ এবং আগের দিন অনুপস্থিত একজন আবেদনকারীকে পরদিন নিয়মবহির্ভূতভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।”
এসব বিষয়ে কথা বলতে কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকীর সাথে মোবাইল কথা তিনি আমরা চেষ্টা করেছি দ্রুত পরিক্ষা শেষ করার জন্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category