মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের গোবরচাপা কাজীর মোড় এলাকায় ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও রিকশার লাইসেন্স বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মথুরাপুর ইউনিয়ন ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও রিকশা সমিতির সভাপতি মো. আত্তার হোসেনকে বদলগাছী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন ধামইরহাট উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও রিকশার লাইসেন্স বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের গোবরচাপা কাজীর মোড় এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল। একই সময়ে মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও নিজস্ব লাইসেন্স বিক্রির কার্যক্রম চলছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষের সময় মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের লাইসেন্স-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আদায়কৃত নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আহত সমিতির সভাপতি মো. আত্তার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তাঁদের বৈধ কার্যক্রমে বাধা দিয়ে প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অন্যদিকে মো. সুজন রহমান বলেন, ঘটনাটি নিয়ে তাঁদেরও বক্তব্য রয়েছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন হওয়া উচিত। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এক ইউনিয়নের লাইসেন্স অন্য ইউনিয়নের এলাকায় বিক্রির কারণে ২ নম্বর মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব উত্তম কুমার মণ্ডল বলেন, “লাইসেন্সগুলো জাহানপুর ইউনিয়নের মধ্যেই বিক্রির জন্য বতুলের কাছে সরবরাহ করা হয়েছিল। পরে জানতে পারি, তিনি সেগুলো বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে বিক্রি করছেন। বিষয়টি আইনবহির্ভূত। তাই তার কাছ থেকে লাইসেন্স ফেরত চাওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।”
ঘটনার পর বদলগাছী থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।