নিজস্ব প্রতিবেদক মর্নিং বিডি ডট নিউজ।
গত ১ আগস্ট ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকায় “নাচোলে মৃত ব্যক্তিও সমবায়ের সদস্য! চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার রামরাজত্ব, তদন্তে বিভাগীয় কার্যালয়” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি আমাদের দৃষ্টি গোচর হয়েছে। উক্ত সংবাদটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর। আমি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমবায় কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সংবাদে যেভাবে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা সঠিক নয়। প্রকৃত সত্য নিচে তুলে ধরা হলো:
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি নিবন্ধিত ‘ঘিওন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর (নিবন্ধন নং: ২০২৬.০১.০২.৭০৫৬.০৩৭৪) সদস্য তালিকার ১৫ নম্বরে শফিকুল ইসলাম (পিতা: মৃত হ্যাপাতুল্লা)-এর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। সমিতি নিবন্ধনের আবেদনপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদানকৃত শফিকুল ইসলামের জীবিত থাকার নাগরিক সনদপত্র দাখিল করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সমিতি নিবন্ধনের পর শফিকুল ইসলাম মারা গেছেন—এ বিষয়টি সমবায় কার্যালয়ের যাচাই-বাছাইয়ে উন্মোচিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর সদস্যপদ বাতিল করা হয় এবং তদস্থলে মজিবুর জেলেকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তাছাড়া, ঘিওন সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির ৬ নম্বর সদস্য মুকশেদ আলী একই সাথে ‘শিবপুর শিয়ালা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’র সম্পাদকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। বিষয়টি সমবায় আইনের পরিপন্থী হওয়ায় তাঁকে ব্যবস্থাপনা কমিটি থেকে বাদ দিয়ে লরেন জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সমিতির সাধারন সম্পাদক, রঞ্জিত কুমার প্রমানিক গত ০৫/০৩/২০২৬ খ্রি. তারিখে জেলা সমবায় কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সংশোধিত রেজুলেশন দাখিল করেন। পরবর্তীতে জেলা সমবায় কার্যালয় সরজমিনে তদন্তপূর্বক পূর্বের কমিটি সংশোধন অনুমোদন করে।
সংবাদে কমিটির সদস্যদের ভুয়া মোবাইল নম্বর ব্যবহারের যে দাবি করা হয়েছে, তাও সত্য নয়। সমিতির নিবন্ধনের প্রতিটি প্রক্রিয়া শতভাগ সরকারি নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে এবং দাপ্তরিক সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। অফিস সময়ের বাইরে কোনো নিবন্ধন দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সমবায় সমিতি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সর্বদাই অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হয় এবং কোনো নিবন্ধিত সমিতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মূলত, অভিযোগকারী এন্তাজ আলী, সমবায় কার্যালয় থেকে নিজামপুর পশ্চিমপাড়া মৎস্যজীবি সঃ সঃ লিঃ এর জেলে আইডি কার্ড বা নির্বাচিত না হয়েও সভাপতি হয়ে যায় এই বিষয়ে ঐ সমিতির সকল সদস্য অভিযোগ করে যে আমাদের সমিতির সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান তাহলে সে কি ভাবে উক্ত সমিতির সভাপতি হলো। এই বিষয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা শুনানি করলে এন্তাজ আলী কে ঐ সমিতির হতে বের করে দেওয়া হয়। এই বিষয়ে সে ক্ষুব্ধ হয়ে নামে বেনামি বিভিন্ন সমিতির নামে, জেলা বা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন।
কোনো প্রকার অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের কাল্পনিক ও মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। সংবাদে নিবন্ধনের বিনিময়ে যে আর্থিক লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও অমূলক।
সাংবাদিক ভাইদের প্রতি বিনীত অনুরোধ, এ ধরনের একপেশে ও অসত্য তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন তৈরির পূর্বে বস্তুনিষ্ঠ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করবেন, যেন দেশ ও জাতির সামনে সঠিক তথ্য প্রতিফলিত হয়।
পরিশেষে, ভিত্তিহীন এই সংবাদের তীব্র নিন্দা জানাই এবং ভবিষ্যতে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রতিবাদকারী:
মোঃ মুখলেশুর রহমান
জেলা সমবায় কর্মকর্তা
জেলা সমবায় কার্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।