• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
Headline
নেতা হিসেবে নয়, জনগণের ভালোবাসার আসনে বসতে চাই: সুফিয়ান কবির শিপন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে সচেতন যুবকদের অভিযানে, মাদক ব্যবসায়ীসহ( ৩ জন) আটক এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য জনতার স্বপ্ন, জনতার আশা—বিল্লাল বেপারী জনগণের ভাষা জনতার স্বপ্ন, জনতার আশা—বিল্লাল বেপারী জনগণের ভাষা শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানালেন অ্যাডভোকেট বসুদেব দাস ও উজ্জ্বল শীল সান্তাহারে তিন শতাধিক বিএনপির কারা নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের বিশাল সংবর্ধনা প্রদান দিনাজপুরে পুজামন্ডপ পরিদর্শন করলেন বিজিবি রংপুর রিজিয়নের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার কর্নেল ফয়সাল পঞ্চগড়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও জমে উঠেছে সোনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব দুর্গা পূজা, ভোলাহাট সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ রাজশাহীতে জমি ও দোকানঘর দখলচেষ্টার অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

তানোর এর অন্যতম চৌবাড়িয়া হাটের প্রবেশ মুখের রাস্তা এখন মরণ ফাঁদ!

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ জাকির হোসেন-টুটুল। / ১০৫ Time View
Update : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ জাকির হোসেন-টুটুল।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত অন্যতম চৌবাড়িয়া হাটের প্রবেশ মুখের সড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে রাস্তায় হাঁটু পানিতে জলাবদ্ধতা ও গভীর খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাত্র ৫০ ফুট রাস্তা এখন মানুষের মরন ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে। 
কিন্তু উপজেলা (এলজিইডি’র) পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই।

জানা গেছে, সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার উত্তরাঞ্চলের অন্যতম চৌবাড়িয়া পশুর হাট বসে। রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গরু-ছাগল ক্রেতা-বিক্রেতাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপারীরা (পাইকারি ক্রেতা) হাটে আসেন। কিন্ত্ত খানাখন্দে ভরা মাত্র ৫০ ফুট রাস্তা এখন তাদের মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দু’একবার খানাখন্দে ইট দেয়া হয়েছিল। কিন্ত্ত নিম্নমাণের পুরাতন রাবিশ ইট দেয়ায় সেগুলো গলে কাঁদায় পরিণত হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীগণ জানান, আগে গর্ত ছিল সেটা বোঝা যেত। কিন্তু ইট গলে কাঁদা-পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এতে কোথায় 
গর্ত আর কোথায় গর্ত নেই সেটাই বোঝা যায় না। এছাড়াও তানোর-চৌবাড়িয়া রাস্তার বেলপুকুর মোড়, হাতিশাইল ও মালার মোড়ে রাস্তায় ভয়াবহ গর্তের সৃস্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বিগত ২০২২ সালে তানোর থেকে চৌবাড়িয়া হাট পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার রাস্তা নতুন ভাবে নির্মাণ করা হয়। কিন্ত্ত নতুন ভাবে রাস্তা নির্মাণের কথা থাকলেও মালশিরা মোড় থেকে চৌবাড়িয়া হাটের সিএনজি স্ট্যান্ড পর্যন্ত শুধুমাত্র সীলকোট করা হয়। অথচ এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে এক কোটি টাকার উপরে ব্যয় দেখানো হয়। 

সুত্র জানায়, তানোর উপজেলা মোড় থেকে চৌবাড়িয়া হাট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করেন রাজশাহী শহরের ওই সময়ের আলোচিত ঠিকাদার ওয়াসিম। এই ১০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১১ কোটি টাকা।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার জানান, রাস্তাগুলো নির্মানের পর থেকে অতিরিক্ত ভারি যানবাহন চলাচল করার কারনে টেকসই হয়নি। আর হাটে প্রবেশের রাস্তাটি নিচু। এজন্য সব পানি রাস্তায় জমে থাকে। রাস্তাটি উঁচু ভাবে আরসিসি করা হবে।
এদিকে এলজিইডির ৩২ লাখ টাকার টেন্ডার নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। সুত্র বলছে, জুন ক্লোজিংয়ের সময় তড়িঘড়ি করে অতি গোপনে ৩২ লাখ টাকার টেন্ডার দিয়েছেন প্রকৌশলী নুর নাহার বেগম। জুন ক্লোজিংয়ের পর বিষয়টি প্রকাশ পায়।  স্থানীয় ঠিকাদারেরা বিষয়টি জানতে পারেন। প্রকৌশলীর এমন কান্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে জনসাধারণ। 
স্থানীয় ঠিকাদারেরা জানান, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে হিসাব সহকারী গোলাম মুর্তুজা, প্রকৌশলী এবং এক এসও’র যোগসাজশে গোপণে টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রকৌশলী কাউকে বুঝতে না দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজগুলো দিয়েছেন। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে টেন্ডার দেয়া হলে স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতা থাকত। একইসঙ্গে  সরকার পেতো বড় অঙ্কের  রাজস্ব। কিন্তু জুন ক্লোজিংয়ে হরিলুটের উদ্দেশ্যে প্রকৌশলী এসব করেছেন বলে মনে করছেন ঠিকাদারগণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এসও বলেন, এই প্রকৌশলী পার্শ্ববর্তী উপজেলা মোহনপুরে দায়িত্বে থাকা কালীন তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও অধীনস্হ কর্মচারীদের গালিগালাজসহ নানা অভিযোগ উঠে। সকল কর্মকর্তা তার অপসারণ দাবি করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তাকে তানোর উপজেলায় বদলি করা হয়। এখানে এসেও তিনি একই ধরনের কর্মকান্ড শুরু করেছেন। তথ্য চাইলে তথ্য না দেয়া, কমিশন আদায়, ঠিকাদারসহ গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী নুর নাহার জানান, ৩২ লাখ টাকার গোপনে টেন্ডার হয়নি। পাঁচটি প্যাকেজে ইউজিপি টেন্ডার দেয়া হয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে টিন, সেলাই মেশিন কেনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এমপি স্যার এগুলো বিতরণ করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category