নিজস্ব প্রতিবেদক, আবুল কাশেম চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চলছে শিল্পায়নের মহাযজ্ঞ। একের পর এক গড়ে উঠছে শিল্পকারখানা ও বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। রয়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কোরিয়ান ইপিজেড। শিল্প ও বিনিয়োগের কারণে বদলে যাওয়ার কথা ছিল পুরো উপজেলার অর্থনৈতিক চিত্র। সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ। কিন্তু বাস্তবতা যেন অনেকটাই ভিন্ন।
শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে আনোয়ারার মাটিতে, অথচ চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন স্থানীয় শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণদের একটি বড় অংশ। উচ্চশিক্ষা শেষ করেও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলেও স্থানীয় যোগ্য প্রার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
শিল্প হচ্ছে, কর্মসংস্থান কার জন্য?
স্থানীয়দের প্রশ্ন, আনোয়ারার জমিতে শিল্পকারখানা, আনোয়ারার মানুষের জন্য কর্মসংস্থান কতটা?
শিল্পায়নের মূল উদ্দেশ্যগুলোর অন্যতম হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। অথচ শিল্পাঞ্চল ঘিরে সেই প্রত্যাশিত সুফল স্থানীয় বেকার তরুণদের জীবনে কতটা পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে দিন দিন ক্ষোভ ও প্রশ্ন বাড়ছে।
স্থানীয় একাধিক তরুণের ভাষ্য, চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তারা আবেদন করছেন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও রয়েছে; কিন্তু নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রার্থীরা কতটা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন, তা স্পষ্ট নয়। ফলে নিজেদের এলাকায় শিল্পকারখানা গড়ে উঠলেও চাকরির জন্য তাদের অন্যত্র ছুটতে হচ্ছে।
আশ্বাসের পরও বাস্তব উদ্যোগ কোথায়?
কিছুদিন আগে স্থানীয় কয়েকজন এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে তাদের থামিয়ে দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও সেই আশ্বাসের দৃশ্যমান বাস্তবায়ন এখনো হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের প্রশ্ন—আশ্বাস আর কতদিন? স্থানীয় বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ কবে নেওয়া হবে?
শিল্পের বিরুদ্ধে নয় স্থানীয়রা
স্থানীয়রা বলছেন, তারা কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী কিংবা শিল্পায়নের বিরুদ্ধে নন। বরং আনোয়ারায় আরও শিল্পকারখানা গড়ে উঠুক, নতুন বিনিয়োগ আসুক, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
তবে শিল্পায়নের সুফল যেন শুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং স্থানীয় জনগণের জীবনমান ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে—এটাই তাদের দাবি।
যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দাবি
সচেতন মহলের মতে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে কোনো অঞ্চলের টেকসই শিল্পায়ন সম্ভব নয়। আনোয়ারার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও দক্ষতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রার্থীদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।
এ জন্য স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, চাকরির তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এখনই দৃশ্যমান পদক্ষেপের দাবি
আনোয়ারার মানুষ শিল্পায়নের সুফল চান, কিন্তু সেই সুফলের অংশীদার হতে চান নিজেরাও। তাদের প্রত্যাশা—শিল্পকারখানা স্থাপনের পাশাপাশি স্থানীয় যোগ্য তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা ও বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কথা নয়, এবার বাস্তব উদ্যোগ দেখতে চান আনোয়ারার বেকার তরুণরা।
যে মাটিতে শিল্পের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে, সেই মাটির মানুষের ভবিষ্যৎও যেন সেই শিল্পের সঙ্গে গড়ে ওঠে—এটাই এখন আনোয়ারাবাসীর সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।