• শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
Headline
সান্তাহার হার্ভে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কাছে কোচিংয়ে না পড়লে শিক্ষার্থীদের ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি আটোয়ারীতে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা দিনাজপুরে শ্রমিক নেতা শেখ বাদশা গ্রেপ্তার: সড়ক অবরোধ, সংঘাত ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত। রামদাসপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ ভূমি অফিসের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিককে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্টের অভিযোগ দিনাজপুরে থানা চত্বরে সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধে থমকে গেছে জনজীবন ঝালকাঠিতে অচেনা কিশোরীর সন্ধান চাচ্ছে এলাকাবাসী বদলগাছীতে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগে ৩৪ যুবকের যোগদান দিনাজপুরে ২১৭ বস্তা স্যার জব্দ, আটক ১

তাপপ্রবাহে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিং, বিপাকে কৃষক-ব্যবসায়ী

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি / ৫৭ Time View
Update : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

মৃদু তাপপ্রবাহের মধ্যেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জুড়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা বেশি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। আমন মৌসুমে সেচ নির্ভর কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিন-রাত মিলিয়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে আমন ধানের জমিতে সময়মতো পানি দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষক মাসুদ রানা বলেন, “এই সময় জমিতে নিয়মিত পানি দিতে হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ বারবার চলে যাওয়ায় পাম্প চালানো যাচ্ছে না। ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”
একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরাও। তাদের অভিযোগ, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা ফসলের উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
শহরাঞ্চলেও লোডশেডিংয়ের প্রভাব কম নয়। পৌরসভার আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বাবু বলেন, “সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েকবার বিদ্যুৎ যায়। এতে ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।” ক্লাব সুপার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল আজিম বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গরমে ক্রেতারা বেশিক্ষণ দোকানে থাকতে চান না। ফলে বিক্রিও কমে গেছে।” বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হঠাৎ করেই বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। তবে সেই তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোহামিনুর রহমান বলেন, “জেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট। ফলে ১০ থেকে ১৫ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।” অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান জানান, গ্রামাঞ্চলে চাহিদার তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, “বর্তমানে আমন ধানের সেচ মৌসুম হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে।”
জেলার সাধারণ মানুষ দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category