সৈয়দ মুনিরুল হক নোবেল:
জামালপুর সদর উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের ৬৬টি মৌজায় বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) জরিপের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এসব মৌজার চূড়ান্ত খতিয়ানও সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিকদের কাছে বিতরণ করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ প্রায় নয় মাস পার হলেও চূড়ান্ত খতিয়ানের তথ্য এখনো অনলাইন ডাটাবেজে আপলোড না হওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে নামজারি (মিউটেশন) কার্যক্রম।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চূড়ান্ত খতিয়ান হাতে থাকা সত্ত্বেও অনলাইনে তথ্য সংযুক্ত না থাকায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েবরা নামজারি আবেদনে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব দিতে পারছেন না। ফলে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেও ভূমি মালিকরা নামজারি সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
নামজারি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জমি ক্রয়-বিক্রয়, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ, উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা হালনাগাদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে সাধারণ ভূমি মালিকদের পাশাপাশি জমি ক্রেতা, বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট সেবাগ্রহীতারা চরম দুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিডিএস জরিপের উদ্দেশ্য ছিল ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করা। কিন্তু জরিপ শেষে চূড়ান্ত খতিয়ানের তথ্য অনলাইনে হালনাগাদ না হওয়ায় সেই সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন ভূমি অফিসে গিয়ে বারবার ফিরে আসতে হচ্ছে, অথচ সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান মিলছে না।
এ অবস্থায় দ্রুত ৬৬টি মৌজার চূড়ান্ত খতিয়ানের তথ্য অনলাইন সিস্টেমে আপলোড করে নামজারি কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ভূমি মালিকরা। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তির অবসান ঘটে এবং ভূমি-সংক্রান্ত সেবা স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়।