• শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন
Headline
সান্তাহার হার্ভে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কাছে কোচিংয়ে না পড়লে শিক্ষার্থীদের ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি আটোয়ারীতে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা দিনাজপুরে শ্রমিক নেতা শেখ বাদশা গ্রেপ্তার: সড়ক অবরোধ, সংঘাত ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত। রামদাসপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ ভূমি অফিসের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিককে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্টের অভিযোগ দিনাজপুরে থানা চত্বরে সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধে থমকে গেছে জনজীবন ঝালকাঠিতে অচেনা কিশোরীর সন্ধান চাচ্ছে এলাকাবাসী বদলগাছীতে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগে ৩৪ যুবকের যোগদান দিনাজপুরে ২১৭ বস্তা স্যার জব্দ, আটক ১

দুদকের গণশুনানিতে অভিযোগের সত্যতা মিললেও আসামিপক্ষের বারবার টাইম পিটিশনে দীর্ঘায়িত হচ্ছে বিচার কার্যক্রম।

মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি: / ১৭২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:

নওগাঁ সদর উপজেলায় ভুয়া কাজীর মাধ্যমে প্রতারণামূলক বিয়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার বিচার পেতে প্রায় দুই বছর ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন এক ভুক্তভোগী নারী। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর মামলা দায়ের হলেও আসামিপক্ষের বারবার সময় প্রার্থনা (টাইম পিটিশন) করার কারণে বিচার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৩ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার হাপানিয়া ইউনিয়নের উল্লাশপুর গ্রামে একটি বসতবাড়িতে ওই নারীর সঙ্গে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। এ সময় অপর এক ব্যক্তি নিজেকে কাজী পরিচয় দিয়ে ১৫ লাখ টাকা কাবিন ধার্য করে বিয়ে পড়ান। কাবিননামায় জমি ও স্বর্ণালঙ্কারসহ ৬ লাখ টাকা নগদ কাবিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে কাবিননামার কপি সংগ্রহ করতে গিয়ে ভুক্তভোগী নারী জানতে পারেন, বিয়ের সময় কাবিনে উল্লেখ করা সম্পত্তি আসামির নয়। এছাড়া যিনি কাজী হিসেবে বিয়ে পড়ান, তার কোনো বৈধ নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) নেই বলেও অভিযোগ ওঠে। কাবিননামার কপি দেওয়ার কথা বলে ওই ভুয়া কাজী পুনরায় টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার ওই নারী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নওগাঁ কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের গণশুনানিতে উভয় পক্ষকে তলব করে শুনানি করা হয়। শুনানিতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করে নওগাঁ সদর মডেল থানায় পাঠানো হয় এবং একই দিন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

তবে মামলা দায়েরের প্রায় দুই বছর পার হলেও এখনো বিচার কার্যক্রম শেষ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, আসামিপক্ষ আদালতে বারবার সময়ের আবেদন করে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে।

ভুক্তভোগী নারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। দুদকে অভিযোগ করার পর তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় মামলা হয়েছে। কিন্তু এখনো বিচার পাইনি। বারবার আদালতে যেতে হচ্ছে। আসামিরা বিভিন্ন কৌশলে সময় নিচ্ছে। আমি দ্রুত ন্যায়বিচার চাই।”

এ বিষয়ে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) বলেন, মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করলে আদালত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেন।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, প্রতারণা ও জালিয়াতির মতো অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এ ধরনের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category