সফিকুল ইসলাম হিরু ঝালকাঠি প্রতিনিধি:-
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ভৈরবপাশা ইউনিয়নের প্রতাপ বাজার বিএনপি কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বেল্লাল হোসেন মৃধার দাবি, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরিশাল থেকে সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বাসে সামনের একটি আসন খালি থাকলেও তাকে পেছনের আসনের টিকিট দেওয়া হয়। সামনের আসনে বসার অনুরোধকে কেন্দ্র করে সুপারভাইজারের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয় এবং তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বরিশাল গেট এলাকার একটি হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে বাসটি যাত্রাবিরতি করে। বেল্লালের অভিযোগ, সেখানে বাসটি প্রায় ফাঁকা হয়ে গেলে চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে ‘চোর’ অপবাদ দিয়ে মারধর করেন এবং তাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়।
তার চিৎকারে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বলে দাবি করেন বেল্লাল। পরে তাকে চিকিৎসা দিয়ে মুকসুদপুর থানায় নেওয়া হয়।
ঘটনার সময় তাকে একটি ব্লেড দেখিয়ে পাশের আসনের একটি ব্যাগ কাটার অভিযোগ তোলা হয় বলেও দাবি তার। পরে সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বেল্লালের অভিযোগ, ভিডিওটি তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—কথিত ব্যাগটির মালিক কে, বাসের প্রকৃত যাত্রী কারা ছিলেন এবং অভিযোগের ভিত্তি কী? একই সঙ্গে মামলায় বাসের কোনো যাত্রী বা কথিত ব্যাগের মালিককে বাদী না করে রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারকে বাদী করার বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বেল্লালের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন দিন পর শনিবার তাকে গোপালগঞ্জ আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে জামিন দেন।
বেল্লাল হোসেন মৃধা বলেন, তিনি কোনো অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হোক। তবে তাকে মারধর করে ‘চোর’ বানিয়ে ভিডিও ছড়িয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার অধিকার কারও নেই। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে বাসের সিসিটিভি ফুটেজ, টিকিট ও যাত্রী তালিকা, কথিত ব্যাগের মালিক, বাসকর্মীদের বক্তব্য, হাইওয়ে পুলিশের ভূমিকা এবং ভাইরাল ভিডিওটির উৎস খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।