আনিছুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক:-
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩ আগস্ট বাঁশখালী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত একটি তালিকা ১৭ আগস্ট রাতে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এরপর ১৮ আগস্ট ভোর থেকে তালিকাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরেই স্থানীয় যোগ্য প্রার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার শতাধিক আবেদনকারী এই গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, “নিয়োগ প্রক্রিয়া যদি শেষ পর্যন্ত ব্যক্তি বিবেচনায়ই সম্পন্ন করতে হয়, তবে কেন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সাধারণ আবেদনকারীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হলো?
অন্যদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, গোপনে সুপারিশ বিবেচনায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সাধারণ ও মেধাবী আবেদনকারীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। যে সাধারণ জনগণের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়, সেই জনগণের মধ্য থেকে যোগ্য আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে এ ধরনের দলীয়করণ কখনো মেনে নেওয়া যায় না।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যেকোনো ধরনের সুপারিশ কিংবা তদবির সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে প্রচার করা হলেও, বাস্তবে তা কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থীরা। ১৭ আগস্ট রাতে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ‘প্রাথমিক তালিকা’ শিরোনামে তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র—যেখানে মৌখিক ভাইভা পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা পিছিয়ে থাকা প্রার্থীরা চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন, অথচ অনেক যোগ্য আবেদনকারী চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
এর আগে দ্বিতীয় ধাপে সার্টিফিকেট যাচাই-বাছাইয়ের সময় থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও উপজেলা প্রশাসন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
নিয়োগে এই অস্বচ্ছতার প্রতিবাদে এবং বিতর্কিত এই তালিকা বাতিলের দাবিতে ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা কঠোর কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন। দ্রুত এই নিয়োগ বাতিল করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী প্রার্থীরা।
এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাঁশখালী উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। এমনকি মুঠোফোনের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়েও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কারো কাছ থেকে কোনো সাড়া এমনকি কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।