মোঃ ফয়সাল হোসেন খুলনা জেলা প্রতিনিধি:- সুন্দরবনে কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামসহ দুই ডাকাতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়েছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডাকাত শওকত সরদার মারা যান। অভিযানে ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যরা খুলনার কয়রা উপজেলার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গভীরে অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন বিকেল ৫টা থেকে টানা দুই দিন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা ও স্টেশন নলিয়ানের সদস্যরা যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে দস্যুদের বহনকারী দুটি নৌকা শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা থামার সংকেত দিলে তারা তা অমান্য করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। একপর্যায়ে ডাকাতদের একটি নৌকায় আগুন ধরে যায় এবং অপর একটি নৌকা ডুবে যায়।
পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) ও ডাকাত শওকত সরদারকে (৫৫) উদ্ধার করে আটক করা হয়। তাদের দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে পালিয়ে যাওয়া অন্য ডাকাতদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। এর অংশ হিসেবে মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনের এলাকায় স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে ডাকাত ইসরাফিল হাওলাদারকে (২৬) হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অভিযান শেষে আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকা তল্লাশি করে ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।
আটক রবিউল ইসলাম ও নিহত শওকত সরদার খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা এবং আটক ইসরাফিল হাওলাদার সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিহত শওকত সরদারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে দস্যুদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে কোস্ট গার্ডকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।