পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:-
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির বলেছেন, একমাস সিয়াম সাধনা পবিত্র মাহে রমাদান মুসলিম উম্মাহর জন্য মহিমান্বিত ও বরকতময় মাস। এ মাসকে সহমর্মিতা, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাস। কুরআন হাদিসে বর্নিত
আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন হে ইমানদারগণ তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। রমাদানের মূল লক্ষ্য হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করা। তাকওয়ার অন্যতম প্রকাশ হলো মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন।
পবিএ রমজান মাসে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকে বিরত থাকে। এর মাধ্যমে তারা ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট অনুভব করে। এই অনুভূতি ধনী-গরিবের ব্যবধান কমিয়ে আনে এবং অসহায় মানুষের দুঃখ উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। ফলে মানুষের অন্তরে সৃষ্টি হয় দয়া, মমতা ও সহানুভূতির মনোভাব। তাই রমাদান প্রকৃত অর্থেই সহমর্মিতার মাস।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন দানশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হাদিসে বর্ণিত, রমাদান মাসে তাঁর দানশীলতা আরও বৃদ্ধি পেত। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল আর রমাদানে তিনি প্রবহমান বাতাসের চেয়েও অধিক দানশীল হয়ে উঠতেন। দান-সদকা ও সহমর্মিতা প্রকাশের বিশেষ সময়। রমাদানে জাকাত ও সদকাতুল ফিতর আদায় করার বিধান রয়েছে। জাকাত ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ, যা সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে। গরিব-দুঃখীদের মধ্যে সম্পদ বণ্টনের মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য কমে আসে। সদকাতুল ফিতর ঈদের আগে আদায় করা হয়, যাতে দরিদ্র মানুষও ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে। এটি সহমর্মিতার এক বাস্তব উদাহরণ।
রমাদান মাসেই নাজিল হয়েছে পবিত্র কোরআন। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘রমাদান মাস, যাতে নাজিল হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হিদায়াত।’ (সুরা আল-বাকারা: ১৮৫)। কোরআনের শিক্ষা মানুষকে ন্যায়, দয়া, সহানুভূতি ও মানবিকতার পথে পরিচালিত করে। কোরআনের আলোকে জীবন গঠন করলে মানুষ অন্যের হক আদায় করতে শেখে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
হাদিসে আরও এসেছে, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, সে রোজাদারের সমান সওয়াব লাভ করে, অথচ রোজাদারের সওয়াব কমে না। (তিরমিজি)। এই শিক্ষা আমাদের অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও উদারতা প্রদর্শনে উৎসাহিত করে।ইফতার মাহফিল, গরিবদের খাবারের ব্যবস্থা, অসহায়দের সাহায্য–সবই রমাদানের সহমর্মিতার চিত্র। রমাদান আত্মসংযমের মাস। রোজা শুধু ক্ষুধা-পিপাসা থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং মিথ্যা, গিবত, ঝগড়া-বিবাদ ও অন্যায় কাজ থেকেও বিরত থাকা রোজার দাবি। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী আমল পরিত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ বুখারি)। অর্থাৎ রোজা মানুষকে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ করে। রমাদান আমাদের শিক্ষা দেয় ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা। ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করে মানুষ ধৈর্যের শিক্ষা লাভ করে, আর ইফতারের সময় আল্লাহর নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এতে মানুষের অন্তর নম্র হয় এবং
অন্যের প্রতি সহানুভূতি বৃদ্ধি পায়।
পরিশেষে বলা যায়, মাহে রমাদান শুধু ইবাদতের মাস নয়; এটি সহমর্মিতা, মানবতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের মাস। রমাদান আমাদের তাকওয়া অর্জনের পাশাপাশি গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়াতে, দান-সদকা করতে এবং সমাজে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
From
Salim Chowdory
Patiya Corresponden
Chittagong
01819349442