নিজস্ব প্রতিবেদক;
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি নিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছে। অর্থের বিনিময়ে এসব সমিতির নিবন্ধন দেয়া হয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধান ও কার্ডধারী মৎস্যজীবীর তথ্য যাচাই-বাছাই
করা হলে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হবে। এসব ভূয়া মৎস্যজীবী
সমিতি নামমাত্র মুল্য সরকারি খাস পুকুর হাতিয়ে নেয়ায় সরকার লক্ষ্য লক্ষ্য টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একারণে হতদরিদ্র
মৎস্যজীবীরা হতদরিদ্রই থেকে যাচ্ছ, আর তাদের নাম ব্যবহার করে সমাজের বিত্তশালী প্রভাবশালীরা আরো বিত্তশালী হচ্ছে। লক্ষ্য- লক্ষ্য টাকা মুল্যর এসব পুকুর ইজারার পুর্বে আবেদন করা সমিতি সরেজমিন পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই হবার কথা রয়েছে। কিন্তু তার পরেও এসব সমিতি পুকুর ইজারা পাচ্ছে কি ভাবে? এবিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক) এর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হতদরিদ্র মৎস্যজীবীরা।
স্থানীয়রা বলছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের হোমরাচোমরাগণ ভুয়া এনআইডি, ভুয়া মৎস্যজীবী কার্ড ও ভুয়া উপ-আইন ব্যবহার করে এসব সমিতি অনুমোদন নিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ,অদৃশ্য এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে ভুয়া মৎস্যজীবী সেজে সমিতির নিবন্ধন নিয়েছেন। এতে এনআইডি, মৎস্যজীবী কার্ড ও উপ-আইনে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। উপজেলার পুকুর ও জলাশয় কুক্ষিগত করতে এ ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বঞ্চিতদের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জালিয়াতি চক্রে উপজেলা ও জেলা সমবায় কর্মকর্তাসহ অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি সমিতির নিবন্ধনের জন্য অফিস টেবিলেই ৫০ হাজার টাকা দিলেই এসব ভুয়া সমিতির নিবন্ধন পাওয়া যায়। তথ্য গোপণ করে সমিতি নিবন্ধনের ফলে সরকার লক্ষ্য- লক্ষ্য টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয় এসব কথিত সমিতি লক্ষ্য টাকার পুকুর মাত্র কুড়ি হাজার টাকায় ইজারা পাচ্ছে। অথচ উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে পুকুরগুলো ইজারা দেয়া হলে কমপক্ষ চারগুন বেশী টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।মৎস্যজীবী সমিতি নিবন্ধনের জন্য ২০ জন প্রকৃত মৎস্যজীবী(যারা মাছ আহরণ করে জীবীকা নির্বাহ করেন) সদস্যের এফআইডি কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, তা না থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য কারণে অবৈধভাবে সিংহভাগ সমিতি নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক সমিতির ২০ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র দু’একজন সদস্য সমিতির নির্ধারিত এলাকায় থাকেন, বাকিরা এলাকার বাইরে অন্য পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। সরেজমিন তদন্ত করা হলে সমিতি জালিয়াতির এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।
স্থানীয়রা জানান, তানোর উপজেলায় মোট ৩২টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি রয়েছে। তানোর এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সমিতির সভাপতি বলেন, জালিয়াতিতে জেলা সমবায় অফিসের অফিস সহায়ক ফেরদৌসী ও তানোর উপজেলা সমবায় অফিসের অফিস সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান সম্পৃক্ত রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, তানোর এর বিল্লী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, কিসমত বিল্লী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, চাকুইট মতষ্যজীবী সমবায় সমিতি, জৌতগরীব পশ্চিমপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, দুর্গাপুর জৌতজীবন মৎস্যজীবী সমবায সমিতি, আশার আলো মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, বনলতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, মধুমতি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, নিল সাগর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, পদ্মফুল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিসহ, সিংহভাগ সমিতিতে প্রকৃত মৎস্যজীবী নেই। সচেতন মহল সরেজমিন এসব সমিতি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তানোর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নাদিম অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো সমিতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি বলেন, মৎস্যজীবী নির্ধারণ করেন মৎস্য কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম বলেন, “অভিযোগের বিষয়গুলো আমার জানা নেই। তবে কেউ যদি ভুয়া লাইসেন্স বা তথ্য গোপন করে লাইসেন্স নিয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।