• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন
Headline
কুলিয়ারচরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬৫ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার ইউপি নির্বাচন ঘিরে বদলগাছীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা মেম্বার পদে রাজেক রেজভীর নাম প্রকাশ চৌকস এসআই রূপন কুমার সরকারের নেতৃত্বে ৪৮ ঘণ্টায় চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার বিরামপুরে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করে ভোটার হওয়ার চেষ্টায় আটক-২ পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে পালানোর চেষ্টা স্বামী আটক। গাজীপুরে ৯ কেন্দ্রে স্বস্তিতে ৯ হাজার ৫৮০ পরীক্ষার্থী। সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে চলছে বাউবির বিএ/বিএসএস পরীক্ষা। উত্তর বেদকাশীতে বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন, উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নের কথা বললেন মনিরুল হাসান বাপ্পী ফুলবাড়ীতে পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত বিগত দুই মাস আগে নাচোল মধ্যবাজার বাবুর বাড়ি চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার ও চোর গ্রেপ্তার করেছেন নাচোল থানা পুলিশ। খুতবায় তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে তোপের মুখে ইমামের পদত্যাগ

সিলেট বিভাগের ৬ নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়েছে, প্লাবিত হচ্ছে নি¤œ এলাকা

আবুল কাশেম রুমন,সিলেট প্রতিনিধি : / ৮০ Time View
Update : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

আবুল কাশেম রুমন,সিলেট প্রতিনিধি : গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বিপদসীমা ছাড়িয়েছে সিলেট বিভাগের ৬ নদীর পানি। ভারতের মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টির ফলে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পানিতে প্রবল বেগে মনু নদীর বাঁধ ভেঙে কমলগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বহু প্রাম প্লাবিত হয়েছে। বানিয়াচংয়ে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে।
উজানের পানি ও টানা বৃষ্টিতে হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওরসহ ছোট বড় সবক’টি হাওরই পানিতে টইটম্বুর। সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এখন অথৈ জলরাশি। পানি বাড়ায় হাওরপারের বাসিন্দাদের দুশ্চিন্তাও বাড়ছে। হাওর গুলোতে পানির ধারণ ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১২৪.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থাকায় গত দুই দিন ধরে সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মেলেনি। দিন ভর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে সিলেট নগরের জীবন যাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ০.২৬ পয়েন্ট নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ১২.৭৫ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় কানাইঘাট পয়েন্টে ১২.৪৯ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ৯.৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখানে বিপদসীমা ১০.৮০ সেন্টিমিটার। অপরদিকে কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে ১৪.৩০ সেন্টিমিটার, শেরপুর পয়েন্টে ৮.৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুই পয়েন্টেই পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে একই নদীর হবিগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া আজমিরীগঞ্জে কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সারি গোয়াইন ও লোভাছড়া নদীর পানিও বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
পাউবো জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কানাইঘাটের সুরমা নদীর পয়েন্টে ২৪ মিলিমিটার, সিলেটে ৫৮ মিলিমিটার, কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে ১২২ মিলিমিটার ও শেরপুর পয়েন্টে ৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারতের পানি ও সিলেট অঞ্চলের টানা বৃষ্টির ফলে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কুশিয়ারা অববাহিকার তীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মনু, ধলই, জুড়ি, খোয়াই, সুতাং ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়েছে। হবিগঞ্জ পাউবো জানিয়েছে, হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধসংলগ্ন খোয়াই নদীর পানিও বিপজ্জনক ভাবে বেড়েছে। এতে শহর ও আশপাশের উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় খোয়াই নদীর পানি বাল্লা স্টেশনে বিপদসীমার ২২০ সেন্টিমিটার, শায়েস্তাগঞ্জে ৯৯ সেন্টিমিটার এবং মাধবপুরের হরিপুর পয়েন্টে ১৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজমিরীগঞ্জে কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার এবং শায়েস্তাগঞ্জের সুতাং সেতু পয়েন্টে সুতাং নদীর পানি ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জে ৬১ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলার খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি উজানে হ্রাস পেলেও ভাটিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের হুমকি দেখা দিয়েছে। পানির চাপে নড়বড়ে হয়ে পড়ছে বাঁধ। হালকা ফাটল ও ছিদ্র হয়ে চুইছে পানি। প্রতিরক্ষা বাঁধের অপর পাশে থাকা বানিয়াচং উপজেলার মকরমপুর ইউনিয়নের রাধাপুর এলাকায় নদীর বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে ওই উপজেলার মকরমপুর ও সুজাতপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার হাওরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বর্তমানে হাওরে কোনো ফসল না থাকায় ক্ষতির আশঙ্কা কম রয়েছে। এদিকে, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌর এলাকার দানিয়ালপুর যশের আব্দা, কামড়াপুর এলাকায় শতাধিক বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় কৃষ্ণধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category