মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:
ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও নিজের বরাদ্দ পাওয়া দোকানঘর ফিরে পাননি প্রতিবন্ধী রাজ্জাক। অভিযোগ উঠেছে, তার সেই দোকানঘরটি বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসনের একাধিক আশ্বাস মিললেও বাস্তবে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
জানা গেছে, গত বছরের ২৪ অক্টোবর নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের ভূমি অফিসসংলগ্ন বাজারে এ ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া ছোট্ট একটি দোকানঘর—যেটিকে ঘিরে ছিল রাজ্জাকের বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়—তা দখল করে নেয় স্থানীয় প্রভাবশালীরা। পরবর্তীতে সেখানে একটি রাজনৈতিক ব্যানারে দলীয় কার্যক্রম শুরু হয়।
ঘটনার পর বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য লিখিত নির্দেশনাও জারি করা হয়। সেই নির্দেশনায় সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে উচ্ছেদের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
কিন্তু বাস্তব চিত্র এখনো বদলায়নি।
প্রতিবন্ধী রাজ্জাক আজও তার দোকান ফিরে পাননি। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ক্লান্ত তিনি। শারীরিকভাবে অসুস্থ এই মানুষটির কণ্ঠে এখন হতাশা আর অসহায়ত্বের সুর।
রাজ্জাক বলেন,
“ঘটনার পর অনেক জায়গায় গেছি, লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু আমার দোকানটা এখনো ফিরে পাইনি। আমার শরীর ভালো না। ওই ছোট্ট দোকানটাই ছিল আমার ভরসা। একটা চায়ের দোকান দিয়ে বাকি জীবনটা শান্তিতে কাটাতে চেয়েছিলাম। এখন কিছুই নেই।”
এদিকে স্থানীয়দের মাঝেও ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দকৃত সম্পত্তি যদি দখল হয়ে যাওয়ার পরও দ্রুত উদ্ধার না হয়, তবে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি রয়েছে এবং শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ সেই অভিযান বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা নেই।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওশাদ হাসান বলেন,
“বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে এবং বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে তার দোকানঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—
ছয় মাস আগে ভেঙে যাওয়া সেই স্বপ্ন কি আবার গড়ে উঠবে?
এখনো প্রতিদিনের মতো অপেক্ষায় আছেন রাজ্জাক, তার ছোট্ট দোকানঘরটির জন্য—যেখানে হয়তো আবার ফুটবে এক কাপ চা, আর জেগে উঠবে বেঁচে থাকার সামান্য আশাটুকু।