মোঃ রাজু রানা
স্টাফ রিপোর্টার ।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বোর্ড অফিস বাজার থেকে ভাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে।
সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সড়কের পিচ উঠে যাওয়ার পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, স্থানীয় লোকজন হাত দিয়েই পিচ টেনে তুলতে পারছেন।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাস্তার বিভিন্ন অংশে কারপেটিং এতটাই দুর্বলভাবে করা হয়েছে যে, সামান্য চাপেই পিচ আলগা হয়ে যাচ্ছে। অনেক স্থানে দেখা গেছে, লোকজন হাত দিয়ে টান দিলে পিচের আস্তরণ সহজেই উঠে আসছে, যা কাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার, পর্যাপ্ত রোলিং না করা এবং কাজের সময় যথাযথ তদারকির অভাবের কারণেই এই বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ভাষায়, “এই রাস্তা দেখে মনে হয় কাজটা শুধু দেখানোর জন্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারের কাছে জানতে চাইলে ঠিকাদার গোলাম রসুল জানান রাস্তার কাজ সম্পন্ন হয়নাই আমি সাইটে যাইনা তবে ওখানে আমার মিস্ত্রী রয়েছেন তাকে ফোন দিয়ে শুনতে হবে কেন রাস্তার কারপিট ওঠে যাচ্ছে
কয়েকদিনের মধ্যেই যদি পিচ উঠে যায়, তাহলে এই উন্নয়ন কার জন্য?”
স্থানীয়দের আরও দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে সরকারের অর্থ অপচয় হচ্ছে। তারা বলেন, “জনগণের টাকায় কাজ হচ্ছে, কিন্তু তার কোনো স্থায়িত্ব নেই—এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
এদিকে, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ভাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ শত শত মানুষ চলাচল করেন। রাস্তার এমন নাজুক অবস্থার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে টেকসইভাবে পুনরায় সড়কটি সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে স্থানীয়রা বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে এবং জনগণের ভোগান্তি আরও বাড়বে।