• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
Headline
জনতার স্বপ্ন, জনতার আশা—বিল্লাল বেপারী জনগণের ভাষা জনতার স্বপ্ন, জনতার আশা—বিল্লাল বেপারী জনগণের ভাষা শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানালেন অ্যাডভোকেট বসুদেব দাস ও উজ্জ্বল শীল সান্তাহারে তিন শতাধিক বিএনপির কারা নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের বিশাল সংবর্ধনা প্রদান দিনাজপুরে পুজামন্ডপ পরিদর্শন করলেন বিজিবি রংপুর রিজিয়নের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার কর্নেল ফয়সাল পঞ্চগড়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও জমে উঠেছে সোনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব দুর্গা পূজা, ভোলাহাট সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ রাজশাহীতে জমি ও দোকানঘর দখলচেষ্টার অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন নাচোলে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত আনন্দ গুপ্ত, ঈদ-পূজায় পাশে দাঁড়ান অসহায় মানুষের

নিলক্ষিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ, স্বাক্ষরহীন হাজিরা খাতা।

আবু তাহের, বকশিগঞ্জ প্রতিনিধি। / ৮২ Time View
Update : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আবু তাহের, বকশিগঞ্জ প্রতিনিধি।

FPI সরোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ, সেবা নিয়ে ক্ষোভ স্থানীয়দের জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত সরোয়ার জাহান (FPI)-এর বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ব্যক্তিগত কাজে চলে যান। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না।

অভিযোগের বিষয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) সরেজমিনে নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে সরোয়ার জাহানকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। ওই দিনের হাজিরা খাতায়ও তার কোনো স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সরোয়ার জাহান প্রথমে বলেন, “আমি অফিসে গিয়েছিলাম, স্বাক্ষর করে মাঠে এসেছি।” তবে হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর নেই জানানো হলে তিনি বলেন, “অফিসে আসছি।” পরে আবার ফোন করলে তিনি জানান, অসুস্থ থাকায় সেদিন অফিসে যেতে পারবেন না।

একই বিষয়ে তার বক্তব্যের পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অন্য দুই কর্মীকে পাওয়া গেলেও অনুপস্থিত সরোয়ার সরেজমিনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে সাইফুল ইসলাম (অফিস সহায়ক/নিরাপত্তা কর্মী) ও মর্জিনা সরকার (আয়া)-কে কর্মস্থলে পাওয়া যায়। তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে সরোয়ার জাহানকে ওই সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিতে আসা এক রোগী বলেন, “সরোয়ার জাহান এখানে পরিদর্শক হিসেবে আছেন বলে জানি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাকে আমি চিনিই না। কারণ তাকে কখনো অফিসে বসে থাকতে দেখিনি।”

স্থানীয় শফিক মিয়া বলেন, “ওষুধের সাপ্লাই বন্ধ হওয়ার পর থেকেই সরোয়ার সাহেবকে নিয়মিত অফিসে পাওয়া যায় না। তিনি ঠিকমতো অফিস করেন না—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “তার বাড়ি নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের সাজিমারা গ্রামে হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ সহজে কথা বলতে সাহস পান না। তিনি নিজের ইচ্ছামতো আসেন এবং চলে যান। অনেক সময় অফিসে এসে এক মিনিটও বসেন না। সরকারি বেতন দেওয়া হয় জনগণকে সেবা দেওয়ার জন্য, দায়িত্বে অবহেলা করার জন্য নয়।”

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে সরোয়ার জাহানের কর্মস্থলে অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টি তারা লক্ষ্য করছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হাজিরা খাতা, উপস্থিতি রেজিস্টার ও দায়িত্ব পালনের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেজাউল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। তাই সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও যথাযথ দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা জরুরি।

অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category