নিজস্ব প্রতিবেদক মর্নিং বিডি ডট নিউজ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যলয়ের সরকারি পশু খাদ্য পাচারের সময় গভীর রাতে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.কাওসার আলী সহ আরো ৬জন স্থানীয় জনতার হাতে অবরুদ্ধ হন।নাচোল থানা পুলিশ ঘটস্থল থেকে সরকারি পশু খাদ্য পাচারের ব্যবহৃত গাড়ি সহ দুজন কে আটক করে। মঙ্গলবার (দিবাগত রাত) সাড়ে ১২টার সময় নাচোল পশু হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।আটকৃত দুজন হচ্ছে পশুখাদ্য ক্রেতা গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে গাজু আলী এবং গাড়িচালক একই উপজেলার বসনিতোলা গ্রামের আবুল কালাম এর ছেলে রাফিকুল।
স্থানীয় আব্দুর রহিম নামের এক ব্যক্তি জানান,উপজেলা প্রাণি সম্পদ হাসপাতালের পশু খাদ্য মঙ্গলবার (দিবাগত রাত) সাড়ে ১২টার দিকে পাচার হচ্ছে এমন খবর নাইট গার্ডের মাধ্যমে জানতে পেরে আমরা স্থানীয় জনতা উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা.কাওসার আলী,কর্মচারি নারায়ন চন্দ্র, আশিক, মাহিদুর, বাবু মিয়া এবং শাজাহান কে অবরুদ্ধ করে রাখি।নাচোল থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল থেকে সরকারি সম্পদ পাচারের ব্যবহৃত গাড়ি সহ দুজন কে আটক করে।রাতভর অবরুদ্ধ থাকার পর নাচোল ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার এর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
এবিষয়ে নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার বলেন,অবরুদ্ধ উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা সহ কর্মচারীদের উদ্ধার করা হয়েছে।প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে কর্মকর্তা সহ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রশাসনিক আইনগত ব্যববস্থা নেওয়া হবে।তবে স্থানীয় জনতার তোপের মুখে ইউএনও বলেন,উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা কাওসার আলী আজকে থেকে এ কার্যলয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।
এবিষয়ে নাচোল থানার ওসি মোহাম্মদ আছলাম আলী বলেন,ক্রেতা ও গাড়ি চালক কে ১৫১ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হবে এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মুছলেকা নিয়ে জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে,তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউসন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
তবে মুছলেকা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছেড়ে দেওয়ায় নাচোল সচেতন মহলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।তার শাস্তি নিশ্চিত না হলে মানববন্ধন সহ কঠোর কর্মসূচির কথা চিন্তা করবে নাচোলবাসী।