ভৌমিক চন্দ্র রায় আটোয়ারী প্রতিনিধি (পঞ্চগড়)
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ১ নং ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের ধরধরা এলাকায় টাঙ্গন নদীর ওপর প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সেতু ও সংযোগ সড়ক নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চার বছর ধরে চলা কাজ তিন বার সংশোধন শেষে মাত্র দুই থেকে তিন মাস আগে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা ব্রীজ ও সংযোগ সড়কের এমন বেহাল দশায় ক্ষোভে ফুসছে এলাকাবাসী
ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ধরধরা এলাকায় সরজমিন দেখা যায়, টাংগন নদীর উপর নবনির্মিত ব্রিজ ও সংযোগ সড়কটি রাতের হালকা বৃষ্টিতে সেতুর উভয় পাশের ২০০ মিটারের হেরিংবোন (ইটের) ধসে পড়ে যান চলাচল ও মানুষের যাতায়াত অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই এই কাজে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। কিছুদিন আগে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ ফরহাদ হোসেন আজাদ। সে সময় এলাকাবাসীর একের পর এক অভিযোগের মুখে তিনি সেতু উদ্বোধন না করেই ফিরে যান। একই সঙ্গে কাজের এমন দূরবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পঞ্চগড় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন। সেই ঘটনার ভিডিও ও খবর সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সেতু সংলগ্ন টাঙ্গন নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলে রাস্তা ভরাট ও মেরামতের অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রিয়নাথসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে ফিলিং (ভরাট) করলে রাস্তা আরও বেশি মজবুত ও টেকসই হবে—এমন যুক্তি দেখিয়ে এলাকাবাসীকে বুঝিয়েছিলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও এলজিইডির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। তাদের সেই আশ্বাসের ওপর ভরসা করেই স্থানীয়রা তখন কাজ করতে বাধা দেননি। কিন্তু নদী থেকে তোলা নরম বালুর ওপর তড়িঘড়ি করে ইটের হেরিংবোন রাস্তা করার কারণেই হালকা বৃষ্টিতেই তা ধসে পড়েছে।