শাহীন সুলতানা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ):
‘জনসেবা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংকল্প আছে যার, জনপ্রতিনিধি হওয়ার অধিকার তার’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত একটি আদর্শ পৌরসভা গড়ার প্রত্যয়ে সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা করেছেন আসন্ন কুলিয়ারচর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা হারুনুর রশিদ।
গত ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার বাদ আছর কুলিয়ারচর পৌরসভার আশ্রবপুরে নিজ এলাকায় তাঁর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
হাফেজ মো. শাহীন মিয়ার কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পৌর কৃষক দলের সাবেক সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন আনুর সভাপতিত্বে এবং মো. শহীদুল্লাহর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হযরত আলী, নূর চাঁন মিয়া, সোহেল আরমান, লিটন মিয়া, আব্দুল হাসিম, বাসির মিয়া, নিজাম উদ্দিন, আকবর আলী, খোকন মিয়া ও আব্দুল আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনো ঘোষণা না হলেও দীর্ঘদিন ধরে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিয়ে কুলিয়ারচর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড, মহল্লা, হাট-বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে আসছেন কাতারপ্রবাসী আশ্রবপুর গ্রামের প্রয়াত ফজলুল হকের ছেলে আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা হারুনুর রশিদ।
তাঁরা আরও বলেন, পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় গিয়ে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কাছে দোয়া চাইছেন তিনি। একই সঙ্গে তৃণমূলের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি আস্থা ও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। প্রবীণদের পাশাপাশি তরুণদের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
সভায় জানানো হয়, কাতারে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা হারুনুর রশিদের দোহায় রিয়েল এস্টেট, রেস্টুরেন্ট, হুমায়দি টাইপিং সেন্টার, হুমায়দি রেস্টুরেন্ট ও নাবিলা ক্লিনিং হসপিটালিটি ব্যবসা রয়েছে। দেশেও তাঁর একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
দাখিল পাস করা হাফেজ মাওলানা হারুনুর রশিদ ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত। তিনি ‘কুলিয়ারচর ইসলামী সমাজ কল্যাণ ঐক্য পরিষদ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। এছাড়া জামিয়া আরাবিয়া নূরুল উলূম কুলিয়ারচরের সদস্যসহ এলাকার একাধিক মাদ্রাসায় সভাপতি ও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সভায় নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে মেয়র প্রার্থী হাফেজ মাওলানা হারুনুর রশিদ বলেন, “পৌরসভার শোষিত, বঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য পৌরসভা গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট সংস্কারসহ পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে তিনি কাজ করতে চান। এ জন্য পৌরসভার সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ। আমার যা কিছু আছে, তা দিয়ে বাকি জীবন অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারব। আমি পৌরসভা থেকে কিছু নিতে নয়, দিতে চাই। আপনারা আমাকে একবার সুযোগ দিয়ে দেখুন, পৌরসভার জন্য আমি কী করতে পারি। আপনাদের সহযোগিতা পেলে ইনশাআল্লাহ আমার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণ হবে।”
এলাকাবাসী ও উপস্থিত বক্তারা বলেন, পৌরবাসীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা হারুনুর রশিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে একই সভায় কুলিয়ারচর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন আশ্রবপুর মহল্লার মরহুম ঝাড়ু মিয়ার ছেলে ও কুলিয়ারচর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি উপস্থিত সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
সভা শেষে উপস্থিত সুধীজন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা হারুনুর রশিদ এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেনের প্রতি সমর্থন ও একাত্মতা প্রকাশ করে তাঁদের জন্য দোয়া করেন। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মো. শাহীন মিয়া।