• মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
Headline
সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা’র কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে মামলায় ‘তথ্যগত ভুল’ মর্মে, আদালতে অব্যাহতি  জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপে সদর উপজেলা -গোমস্তাপুর ম্যাচ ড্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ কর্মসূচি সোনামসজিদ আইসিপিতে ৫৯ বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ নওগাঁয় ডিবির মাদকবিরোধী অভিযানে ৪২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ দিনাজপুর ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স পিএলসি জনবীমা এরিয়া ১৫, এর উদ্যোগে মৃত্যু দাবির ১০ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধবা নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে শব্দ ও বায়ুদূষণবিরোধী মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ১১ হাজার টাকা সরিষাবাড়ীতে বালু ব্যবসার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপে সংঘর্ষে ৬ আহত সান্তাহার পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মিঠুর চাচার ইন্তেকাল

কপোতাক্ষের তীরে সগর্বে দাঁড়িয়ে তিনশ বছরের কান্তরাম জমিদারবাড়ি

মোঃ ফয়সাল হোসেন কয়রা খুলনা জেলা প্রতিনিধি:- / ৪২ Time View
Update : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

মোঃ ফয়সাল হোসেন কয়রা খুলনা জেলা প্রতিনিধি:-

খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের শেওড়া গ্রাম, পাশ দিয়ে সর্পিল গতিতে বয়ে চলেছে কপোতাক্ষ নদ । এরই তীরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক জমিদারবাড়ি । প্রায় তিনশ বছরের পুরনো স্থাপনাটি পরিচিত কান্তরামের জমিদারবাড়ি নামে ।

অষ্টাদশ শতকের শুরুর দিকে গহীন সুন্দরবন পরিস্কার করে কান্তরাম মন্ডল জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন । প্রায় দুই হাজার বিঘা জমি নিয়ে ছিলো এই জমিদারির ব্যপ্তি ।

সংস্কারের অভাবে বর্তমানে বাড়িটির অবস্থা বেশ জরাজীর্ণ । দুই তলা বিশিষ্ট বাড়িটিতে আছে দশটি কক্ষ । ভাঙন ধরেছে দ্বিতীয় তলার ছাদে । জন্মেছে বিভিন্ন গাছ । বাড়িটির আশেপাশে বসবাস করছেন জমিদারের কয়েকশ বংশধর । এছাড়া একই ইউনিয়নের বামিয়া এবং বাঁশখালী গ্রামে বসবাস করছেন জমিদারের বংশধরেরা ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাড়িটি ব্যাপকভাবে লুটপাটের শিকার হয় । বাড়ির দেয়ালে অসংখ্য গুলির দাগ এখনো ভয়ঙ্কর সেই স্মৃতিচিহ্ন বহন করে চলেছে ।

বর্তমানে বয়স্কদের মধ্যে জমিদার কান্তরামের একমাত্র নাতি অশ্বিনী মন্ডল বেঁচে আছেন । তার বয়স প্রায় ৯০ বছর । তিনি এই বাড়ির চতুর্থ প্রজন্ম । আমরা কথা বলেছিলাম তার সাথে । বয়সের কারণে স্মৃতিশক্তি কমলেও তিনি একে একে জানিয়েছেন বেশ কিছু তথ্য । প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাড়িটির দায়িত্ব নিতে চাইলে তার কোনো আপত্তি নেই বলে জানান তিনি ।

এছাড়া জমিদারবাড়ির কয়েকশ বংশধর বিভিন্ন সময়ে স্থায়ীভাবে ভারতে চলে গেছেন । তবে সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো প্রচারের অভাবে আশেপাশের এলাকার মানুষ এই বাড়িটি সম্পর্কে জানে না । মাঝে মাঝে দু একজন দর্শনার্থী বাড়িটি দেখতে আসেন । এই প্রতিবেদকের সাথে বেশ আগ্রহ নিয়ে গিয়েছিলেন বাড়িটি দেখতে । বাড়িটি ঘুরে দেখে বেশ ভালো লেগেছে বলে জানান তারা ।

বেশ প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন কান্তরাম । তৎকালীন সময়ে কপোতাক্ষ নদ ধরে জলদস্যুদের উৎপাত ছিলো লক্ষণীয় । তবে সেসব বেশ ভালোভাবেই দমন করতেন কান্তরাম মন্ডল এবং তার বংশধরেরা ।

প্রায় তিনশ বছরের পুরনো স্থাপনাটি বয়সের ভারে জরাজীর্ণ হলেও, এর প্রতিটা গাথুনিতে লেখা আছে গৌরব আর অমূল্য ইতিহাস । সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হয়তো বাড়িটি টিকে থাকবে আরো কয়েক যুগ । নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে এই বাড়ির ঐতিহাসিক পটভূমি । বেঁচে থাকবে জমিদার কান্তরামের গৌরব গাঁথা ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category