আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও ভ্যানের পৌরসভার লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলে চালক ও মালিকদের কাছ থেকে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি অনুমোদনবিহীন লাইসেন্স, ৭টি মালিক লাইসেন্স বহি ও ৯টি চালক লাইসেন্স বহি জব্দ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সান্তাহার রেলওয়ে গেটের পশ্চিম পাশে বাঁধন কোন ফ্যাক্স দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আদমদীঘি উপজেলার বড় টিকরী পৌতা গ্রামের মোঃ হাফিজুল ইসলামের ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম (২৭) এবং হলুদঘর গ্রামের মৃত আসতুল সরদারের ছেলে আলম হোসেন (৫৬)।
ঘটনার বিষয়ে সান্তাহার সাইলো রোডের পাশে এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন খন্দকার (৫২) বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
এজাহার সুত্রে জানা গেছে, বেলাল হোসেনের শ্বশুর ফারুক সরদার (৭০) ব্যাটারি চালিত ভ্যান চালান। ঘটনার সময় তিনি সান্তাহার রেলগেটের পশ্চিম পাশে অবস্থান করছিলেন। সেখানে রবিউল ইসলাম তার ভ্যান আটক করে পৌরসভার লাইসেন্সের কথা বলে ৭০০ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে বেলাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে রবিউল ইসলামের কাছে টাকা আদায়ের বৈধতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় রবিউল ইসলাম তাকে ভয়ভীতি দেখান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক পর্যায়ে স্থানীয় পথচারীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে লাইসেন্স সংগ্রহ ও টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল ইসলাম দাবি করেন, তিনি আলম হোসেনের কাছ থেকে লাইসেন্স সংগ্রহ করে অটোরিকশা-ভ্যানের মালিক ও চালকদের কাছে টাকা নিয়ে সরবরাহ করেন। পরে স্থানীয়রা রবিউল ইসলামকে আটক করে তার সহযোগী আলম হোসেনকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। আলম হোসেন ঘটনাস্থলে আসার পর তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বেলাল হোসেন সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়িতে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রবিউল ইসলামের কাছ থেকে ওই লাইসেন্স ও লাইসেন্স বহিগুলো জব্দ করে এবং রবিউল ইসলাম ও আলম হোসেনকে হেফাজতে নেয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন পরস্পর যোগসাজশে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও ভ্যানের মালিক-চালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা করে আদায় করে আসছিলেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় এজাহার দায়ের করেছেন বেলাল হোসেন।
এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের পর শুক্রবার দুপুরে বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।