আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুরে আখেরী মুনাজাতের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপাী তাবলীগ জামাতের জেলা ইজতেমা শেষ হয়েছে। আখেরী মুনাজাতে ছিল সর্বস্তরের মানুষের ঢল। মুনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ তাবলীগ জামাতের সুরা সদস্য হযরত মাওলানা মনির বিন ইউসুফ।
বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা ১৯ মিনিটে মুনাজাত শেষ হয়। ২২ মিনিটের মুনাজাতে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের সকল মুসলমানের শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা কামনা করা হয়। বিশেষ করে স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় প্রশাসনের জন্য মুনাজাত করা হয়।
শনিবার (৮ নভেম্বর ২০২৬) সকাল থেকে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড়ময়দানে ইজতেমা মাঠে সমবেত হন লক্ষাধিক মুসল্লি। বেলা ১০টার মধ্যে ইজতেমা মাঠ ও আশপাশের এলাকা লোকে লোকারন্য হয়ে উঠে। ইজতেমার প্যান্ডেল ছাড়িয়ে আশপাশের বাসা-বাড়ি, সরকারি-বেসরকারি অফিস, রাস্তা, ঈদগাহ মাঠ, শিশু পার্কসহ পুরো বড়মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। ইজতেমা মাঠ পরিণত হয় বিশাল জনসমুদ্রে। মুনাজাতে প্রায় লক্ষাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেছেন বলে ইজতেমার আয়োজক ও সাধারণ মুসল্লিবৃন্দ দাবী করেছেন।
শহরের অধিকাংশ দোকানী তাদের দোকানপাট বন্ধ করে মুনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। মুনাজাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সরকারী-বেসরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য, নারী, শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মুনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
রবিবার ইজতেমার শেষ দিন বাদ ফজর বয়ান করেন ঢাকার কাকরাইলের মুরব্বি মোঃ হারুনু-অর-রশিদ। এর পর সকাল ৯টা হতে বয়ান করেন দিনাজপুর জেলা তাবলীগ জামাতের আমির হাবিপ্রবির প্রফেসর ড. আব্দুল হাকিম। তাঁর বয়ানের হেদায়েতি বয়ান করেন কাকরাইলের মুরুব্বি মোঃ শাহাদাত হোসেন। মুনাজাতের আগ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত বয়ান করেন ও মুনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ তাবলীগ জামাতের সুরা সদস্য হযরত মাওলানা মনির বিন ইউসুফ।
সব বয়ানে সারা পৃথিবীর মানুষ যাতে দ্বীন মেনে দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ লাভ করতে পারে, মুক্তি পেতে পারে ও শান্তিতে থাকতে পারে এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এদিকে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ইজতেমা মাঠের চার পাশে মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ গোয়েন্দা বিভাগের সদস্য মোতায়েন ছিল।
দিনাজপুর জেলা তাবলীগ জামাতের আমির (আমিরে ফয়সাল) এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম জানান, ইজতেমার প্রথম দিন ৬ নভেম্বর শুক্রবার বাদ ফজর বয়ান করেন কাকরাইলের মুরুব্বী মাওলানা মোহাম্মদুল্লাহ, সকাল ১০টায় তালিমের আদব সম্পর্কে বয়ান করেন ডা. জাকির হোসেন, বাদ জুমা হযরত মাওলানা মনির বিন ইউসুফ, বাদ আসর সৌদি মেহমান এবং বাদ মাগরিব মুফতি সৈয়দ উসামা ইসলাম বয়ান করেন।
৭ নভেম্বর শনিবার বাদ ফজর বয়ান করেন হযরত মাওলানা মনির বিন ইউসুফ, সকাল ১০টায় ছাত্রদের মজমায় বয়ান করেন মুফতি সৈয়দ উসামা ইসলাম, বাদ জোহর মালয়েশিয়ার মেহমান এবং বাদ মাগরিব বাংলাদেশ তাবলীগ জামাতের আমির সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম।আর ৮ নভেম্বর রবিবার ইজতেমার শেষ দিন বাদ ফজর বয়ান করেন হারুন-অর-রশিদ, সকাল ৯টায় দিনাজপুর তাবলবিগ জামাতের আমিরে ফায়সাল (জিম্মাদার) হাবিপ্রবির প্রফেসর ড. আব্দুল হাকিম বয়ান করেন। এর পর হেদায়াতি বয়ান করেন কাকরাইলের মুরুব্বি শাহাদাত হোসেন এবং মুনাজাতের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বয়ান করেন ও মুনাজাত বাংলাদেশ তাবলীগ জামাতের সূরা সদস্য হযরত মাওলানা মনির বিন ইউসুফ।
প্রফেসর ড. আব্দুল হাকিম জানান, দিনাজপুর জেলা ইজতেমায় ৫ মাসের জন্য বিদেশ সফরের জামাত হয়েছে ১২টা, ২ মাসের মাস্তুরাতসহ সফরের জামাত ৭ টা, ১ চিল্লার মাস্তুরাতসহ সফরের জামাত ২৮টা, ৩ চিল্লার পুরুষ জামাত ২টা, ১ চিল্লার পুরুষ জামাত ১১টা, ১ চিল্লার বধির জামাত ২টা, দিনের জামাত ৯২টাসহ
সর্বমোট জামাত হয়েছে ১২৮ টা।
ইজতেমায় সহযোগিতা করার জন্য ইজতেমায় আগত মুসল্লি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথমবারের মত জেলা ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পর ২০২২ সালের ৩১ মার্চ হতে ২ এপ্রিল পর্যন্ত দ্বিতীয়বারের মত এবং ২০২৩ সালের ২ মার্চ হতে ৪ মার্চ পর্যন্ত তৃতীয়বার, ২০২৪ সালে ৫-৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চতুর্থবার দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী তাবলীগ জামাতের জেলা ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এটি পঞ্চম জেলা ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সার্বক্ষণিক উপস্থিত মজমা ২০ হাজার, জুমার নামাজে উপস্থিত মজমা ৪০-৫০ হাজার এবং আখেরি দোয়ায় উপস্থিত মজমা লক্ষাধিক ছিল।