• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন
Headline
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাসদের ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ কর্মচারী ছাঁটাই, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত ১৫ মাস বেতন নেই, ফ্লোর ও বাথরুম অপরিচ্ছন্নতায় দুর্ভোগে রোগীরা দক্ষিণ চট্টগ্রামে কথিত ‘টোকেন মানিক’ সিন্ডিকেট! সাংবাদিকতার পরিচয়ে টোকেন বাণিজ্য, হুমকি ও অবৈধ সিএনজি চলাচলের অভিযোগ সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে ফিরছে তেলের হেড ডিপো, স্থায়ী ডিপো নির্মাণে উদ্যোগ ফুলবাড়ীতে পে-প্রেসক্রিপশনের কাজের নামে টাকা উত্তোলন, কাজ করছে শিক্ষকেরাই। ১ লাখ ২২ হাজার টাকা গেলো কোথায়? অসুস্থতায় ভুগছেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান, দেশবাসীসহ সবার কাছে দোয়া কামনা ঝালকাঠির রাজাপুরে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার বাড়ি ফেরা হলো না সবুজের, সড়কে মিলল নিথর দেহ আরআরএমইপি প্রকল্পে ১০ নারী কর্মী নিয়োগে যোগ্যতা যাচাই, গুরুত্ব স্বচ্ছতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির অভিযানে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ কর্মচারী ছাঁটাই, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত ১৫ মাস বেতন নেই, ফ্লোর ও বাথরুম অপরিচ্ছন্নতায় দুর্ভোগে রোগীরা

মোঃ ফয়সাল হোসেন খুলনা জেলা প্রতিনিধি:- / ২৮ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

মোঃ ফয়সাল হোসেন খুলনা জেলা প্রতিনিধি:- খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত ৩০ জন কর্মচারীকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশের পর হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা এসব কর্মচারী এখন চাকরি হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন। অন্যদিকে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভাবে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ফ্লোর, বাথরুম ও আশপাশের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। এতে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত ৩০ জন কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতির নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব কর্মচারীর মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা রয়েছেন। দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে বেতন-ভাতা না পেলেও তারা হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা রক্ষা, ওয়ার্ডের বিভিন্ন দায়িত্বসহ জরুরি সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে কাজ করে আসছিলেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী কর্মচারীরা জানান, টানা ১৫ মাস বেতন না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। দোকানে বাকি, আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কোনো রকমে সংসার চালিয়েছেন তারা। অনেকের পরিবারে তারাই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এমন পরিস্থিতিতে বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই চাকরি থেকে অব্যাহতির নির্দেশ পাওয়ায় তাদের জীবনে নতুন করে অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করার পরও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বকেয়া বেতন পরিশোধের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো চাকরি থেকে অব্যাহতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সেবা কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তারা অবিলম্বে বকেয়া ১৫ মাসের বেতন পরিশোধ এবং মানবিক বিবেচনায় চাকরিতে বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, ৩০ জন কর্মচারীকে অব্যাহতির নির্দেশের পর হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানের মেঝে ও বাথরুম নিয়মিত পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রোগীদের ব্যবহৃত বাথরুম ও ওয়ার্ডের ফ্লোর অপরিচ্ছন্ন থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ভর্তি রোগী, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষ এবং তাদের স্বজনদের।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের মধ্যে থাকতে হচ্ছে রোগীদের। শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য এ ধরনের পরিবেশ বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। চিকিৎসাসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশ। অথচ জনবল সংকটের কারণে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেই পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কয়রা উপজেলার বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সরকারি এই হাসপাতালই চিকিৎসার প্রধান আশ্রয়স্থল। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট তৈরি হওয়ায় হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কোনো সাধারণ বিষয় নয়; এটি রোগীদের চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই কর্মচারীদের চাকরির বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, ৩০ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীকে অব্যাহতি দেওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কর্মচারীর অভাবে হাসপাতালের ফ্লোর ও বাথরুম নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। তিনি আরও জানান, কর্মচারীর সংকটের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, ভুক্তভোগী কর্মচারীরা তাদের দীর্ঘ ১৫ মাসের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ, চাকরিতে পুনর্বহাল এবং বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একদিকে দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়া কর্মচারীদের মানবিক সংকট, অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থবিরতা—দুটি বিষয়ই গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা, কর্মচারীদের চাকরির বিষয়ে সুষ্ঠু সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে খুলনার সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category