• মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৯ অপরাহ্ন
Headline
বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে রূপ চাঁদা নামে পরিচিত নিষিদ্ধ পিরানহা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা’র কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে মামলায় ‘তথ্যগত ভুল’ মর্মে, আদালতে অব্যাহতি  জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপে সদর উপজেলা -গোমস্তাপুর ম্যাচ ড্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ কর্মসূচি সোনামসজিদ আইসিপিতে ৫৯ বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ নওগাঁয় ডিবির মাদকবিরোধী অভিযানে ৪২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ দিনাজপুর ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স পিএলসি জনবীমা এরিয়া ১৫, এর উদ্যোগে মৃত্যু দাবির ১০ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধবা নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে শব্দ ও বায়ুদূষণবিরোধী মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ১১ হাজার টাকা সরিষাবাড়ীতে বালু ব্যবসার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপে সংঘর্ষে ৬ আহত

বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে রূপ চাঁদা নামে পরিচিত নিষিদ্ধ পিরানহা

মোঃ ফয়সাল হোসেন খুলনা জেলা প্রতিনিধি:- / ২৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মোঃ ফয়সাল হোসেন খুলনা জেলা প্রতিনিধি:-
খুলনার কয়রা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ প্রকাশ্যে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্ধ্যার দিকে বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের কাছে অন্যান্য মাছের পাশাপাশি পিরানহা মাছও বিক্রি করছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

সম্প্রতি কয়রা বাজার, আমাদী বাজার, ফুলতলা বাজার ও দেউলিয়া বাজারে সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। বাজারে মাছের পসরা সাজিয়ে প্রকাশ্যেই পিরানহা বিক্রি করতে দেখা গেছে।

কয়রা বাজারের মাছ বিক্রেতা ইউনুস আলী বলেন, ‘আমি জানি মাছটি নিষিদ্ধ। কিন্তু সবাই বিক্রি করছে, তাই আমিও বিক্রি করছি।’

এ সময় উপজেলার গোবরা গ্রামের ভ্যানচালক আক্তারুলকে পিরানহা মাছ কিনতে দেখা যায়। ভ্যানচালক আক্তারুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাছ তো মাছই। সবাই খাচ্ছে, তাই আমিও নিচ্ছি।’ তিনি জানান, প্রতি কেজি ২৬০ টাকার বেশি দরে তিনি এক কেজি পিরানহা কিনেছেন। তার ভাষ্য, অন্য মাছের তুলনায় পিরানহার দাম কম হওয়ায় তিনি এটি কিনেছেন।

তবে পিরানহা মাছের বেচাকেনা নিষিদ্ধ হলেও কয়রার বাজার ও মৎস্য আড়তে বিক্রি বন্ধ হয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্ধ্যার দিকে বিভিন্ন মাছের দোকানে ক্রেতাদের কাছে রূপচাঁদা বলে পিরানহা মাছ বিক্রি করা হচ্ছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পিরানহা গোত্রের মাছ আমদানি, বহন, প্রজনন, চাষ, বিক্রি, বাজারজাত, প্রদর্শন ও মজুত নিষিদ্ধ। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫-এর ১৬ নম্বর বিধিতে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ২০০৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এ বিধি কার্যকর করা হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পিরানহা বাংলাদেশের জলজ পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি শিকারি স্বভাবের হওয়ায় দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে দেশে এ মাছের চাষ ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কয়রা উপজেলা মৎস্য অফিসার সমীর কুমার সরকার জানান, পিরানহা মাছ নিষিদ্ধ। কয়রা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এ মাছ বিক্রির বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু, পরিবেশ ও বন রক্ষায় কাজ করা সুন্দরবন ইকো-রিজিলিয়েন্স ইনিশিয়েটিভের সমন্বয়ক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, নিষিদ্ধ মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হলেও নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান না থাকায় ব্যবসায়ীরা এভাবে মাছ বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। তার দাবি, বাজারগুলোতে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ পিরানহার বিক্রি বন্ধ করার পাশাপাশি সরবরাহের উৎসও খুঁজে বের করা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category