মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় সরকারি বই গোপনে বিক্রি ও পাচারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের এক অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে। ছুটির দিনে টেন্ডার ছাড়াই প্রায় ৭০০ কেজি বই সরানোর সময় স্থানীয়দের তৎপরতায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে উপজেলা প্রশাসন বইগুলো জব্দ করে।
মঙ্গলবার (গতকাল) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার নিতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেট এলাকায় একটি অটোরিকশা থেকে বইগুলো আটক করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় অটোরিকশা চালককে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে একটি অটোরিকশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে প্রবেশ করে। পরে অফিস সহকারী আমানত আলীর যোগসাজশে সরকারি বইগুলো গাড়িতে তোলা হয়। বইগুলো তাইফুর আলী নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অটোরিকশা চালক ভাড়ার বিনিময়ে বইগুলো পরিবহন করছিলেন।
অটোরিকশা চালক ইউএনও কার্যালয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি এসব বই অফিস সহকারী আমানত আলীর কাছ থেকেই নিয়েছেন এবং নির্ধারিত ভাড়ার ভিত্তিতে সেগুলো পরিবহন করছিলেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, নিতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেটে পৌঁছালে সন্দেহ হলে তারা অটোরিকশাটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। পরে সরকারি বই দেখতে পেয়ে তা জব্দ করে প্রশাসনকে খবর দেন। তবে ঘটনার সময় অভিযুক্ত অফিস সহকারী ও ক্রেতা কেউই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি জানাজানি হলে তারা সটকে পড়েন।
জানা গেছে, জব্দকৃত বইগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা। টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই সরকারি সম্পদ বিক্রির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, অভিযুক্ত আমানত আলী পূর্বে পিয়ন পদে কর্মরত থাকলেও পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে অফিস সহকারী হন। বিভিন্ন সময় তদবির করে বদলি হয়ে আবার পোরশায় ফিরে আসেন। স্থানীয় হওয়ার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া আচরণ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আমানত আলী বলেন, “একজনের অনুরোধে বইগুলো দিয়েছিলাম। পরিষ্কারের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। কোনো টাকা নিইনি। তবে এটা আমার ভুল হয়েছে।” অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, তিনি সৎভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাপাহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও পোরশার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শামসুল কবীর বলেন, “আমি ছুটিতে ছিলাম। বিষয়টি ইউএনও আমাকে জানানোর পর অভিযুক্তকে ফোন দিলে সে গোডাউন পরিষ্কারের কথা বলে। বইগুলো পুরাতন হলেও অনুমতি ছাড়া সেগুলো সরানো বা বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “বইগুলো জব্দ করে আমাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিবহনকারী চালকের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অফিস ছুটি থাকায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা তারা নেবেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।