তাজমিনুল ইসলাম তরুণ, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার উদ্ভব হয়েছে, যেখানে বেলি রাণী নামের এক নারী তার নবজাতক সন্তানকে নিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত সেই শিশু পায়নি তার প্রাপ্য পিতৃস্বীকৃতি কিংবা বিচার।
জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও জজকোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বেলি রাণীর একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতে হাজির হয়ে তিনি তার সন্তানের পিতৃপরিচয় প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানালেও বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও নানা জটিলতায় তিনি চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে বিচার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। এতে করে আইনের আশ্রয় নিয়েও বেলি রাণী ও তার নবজাতক সন্তান ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—একটি নির্দোষ শিশুর ভবিষ্যৎ কি এভাবেই অনিশ্চয়তার মধ্যে হারিয়ে যাবে?
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এটি কেবল একটি পরিবারের সমস্যা নয়; বরং এটি সমাজের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে মানবাধিকার কর্মীরাও মনে করছেন, শিশুর পিতৃপরিচয় ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ধরনের ঘটনায় বিলম্ব না করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভুক্তভোগী মা ও তার সন্তান তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে পারে।
বর্তমানে বেলি রাণী তার সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার আশায় বিচার ব্যবস্থার দিকে তাকিয়ে আছেন। এখন দেখার বিষয়—কবে মিলবে সেই প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার।
শেষ কথা:
এই ঘটনা আমাদের সমাজের একটি নির্মম বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসে, যেখানে ক্ষমতা ও প্রভাবের কাছে অনেক সময় অসহায় মানুষের অধিকার হারিয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই মা ও শিশুর জীবনে ন্যায়বিচারের আলো ফিরিয়ে আনতে।