মোঃ ইব্রাহিম খলিলঃ
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। স্মারকে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার একটি নিট কম্পোজিট কারখানায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির মিথ্যা অভিযোগ তুলে গার্মেন্টস শ্রমিক দীপু দাসকে পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মামলার অগ্রগতি নিয়ে অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতারা।
স্মারকে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিহত দীপু দাসের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়নি। বরং অভিযুক্তদের অনেকেই এখনো অধরা রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন।
স্মারকে উত্থাপিত ৪ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে,
দীপু দাস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা, নিহতের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, পরিবারের সদস্যদের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থানীয় জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা।
স্মারক প্রদানকালে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, একটি পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক উসকানির মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং এর পেছনে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও অভ্যন্তরীণ ইন্ধন সংশ্লিষ্টতায় প্রভাবশালীদের ভূমিকা রয়েছে কিনা তদন্ত করা জরুরি।
এ সময় জেলা প্রশাসনের কাছে মানবিক ও ন্যায়সংগত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শ্রমিক সমাজের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে।
স্মারক প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন
মোশরেফা মিশু, সভাপতি, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশন; শবনম হাফিজ, সভাপতি, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন; সাদেকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র; ডা. হারুন-অর-রশীদ, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশ; শামীম ইমাম, সমন্বয়ক, গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন; সুশান্ত সিনহা, সদস্য সচিব, গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলন; নাসিরউদ্দিন নামু, সমন্বয়ক, গণমুক্তি ইউনিয়ন; অমল ত্রিপুরা, সমন্বয়ক, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট ও সভাপতিপার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি); নরেশ ত্রিপুরা, সহ-সাধারণ সম্পাদক, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি); দেবব্রত সাহা ও জাকিরুল বাশার আক্রাম, সংগঠক, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন; শেখ বাহার মজুমদার, সভাপতি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, ময়মনসিংহ জেলা; অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশীদ, সভাপতি, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, ময়মনসিংহ জেলা এবং বাবলিয়া আখন্ড, কোষাধ্যক্ষ, বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্ট টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন।