• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন
Headline
আটোয়ারীতে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা দিনাজপুরে শ্রমিক নেতা শেখ বাদশা গ্রেপ্তার: সড়ক অবরোধ, সংঘাত ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত। রামদাসপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ ভূমি অফিসের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিককে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্টের অভিযোগ দিনাজপুরে থানা চত্বরে সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধে থমকে গেছে জনজীবন ঝালকাঠিতে অচেনা কিশোরীর সন্ধান চাচ্ছে এলাকাবাসী বদলগাছীতে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগে ৩৪ যুবকের যোগদান দিনাজপুরে ২১৭ বস্তা স্যার জব্দ, আটক ১ গোমস্তাপুরে ইউএনও নির্দেশে ছুটির দিনে প্রতিবন্ধী ডাক্তার জরিপ

নওগাঁয় বিএনপি’র ব্যানারে দখলবাজি? প্রতিবন্ধীর শেষ সম্বল গিলে খেলো প্রভাবশালীরা!

মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি: / ১৩৬ Time View
Update : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:

নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নে এক শারীরিক প্রতিবন্ধীর বরাদ্দপ্রাপ্ত দোকানঘর দখলের অভিযোগের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা এ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর সকালে দুবলহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসসংলগ্ন বাজার এলাকায় পরিকল্পিতভাবে দোকানঘরটি দখল করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপির ব্যানারে কয়েকজন নেতা দোকানঘরটি ভেঙে নতুন নির্মাণকাজ শুরু করেন। এ সময় নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত চান্দু মেম্বার।

দোকানঘরটির বরাদ্দপ্রাপ্ত শারীরিক প্রতিবন্ধী রাজ্জাক (রাজা) জানান, জেলা প্রশাসকের বিশেষ বরাদ্দে পাওয়া দোকানটি ছিল তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।

তিনি বলেন, আমি একজন অসহায় মানুষ। ছয় মাস ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাইনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সরকারি ছুটির দিনকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত দোকানটি ভেঙে ফেলে দখলদাররা। স্থানীয় বাসিন্দা শান্ত বলেন, লোকজন জড়ো হওয়ার আগেই তারা দোকান ভেঙে ভেতরে নির্মাণকাজ শুরু করে।

ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন তদন্তের নির্দেশ দেন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে উচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি কেস জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কেসটি অনুমোদিত হয়েছে এবং ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগও দেওয়া হয়েছে, তবে জেলা প্রশাসকের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের অপেক্ষায় পুরো প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ সঠিক নয়, বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ভুক্তভোগী রাজ্জাক জানান, গত ছয় মাসে তিনি অন্তত ৪০ থেকে ৫০ বার বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েছেন। প্রতিবারই আশ্বাস পেলেও বাস্তব কোনো সমাধান পাননি। এখন আমি সম্পূর্ণ নিরুপায়,বলেন তিনি।

এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সম্পত্তি দখল করা শুধু বেআইনি নয়, এটি চরম অমানবিক কাজ। তারা দ্রুত দখলদারদের উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের অভিমত, দীর্ঘ ছয় মাসেও একটি উচ্ছেদ প্রক্রিয়া প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার ধীরগতিরই প্রমাণ। দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category