• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন
Headline
আনোয়ারা প্রেস ক্লাবে তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন। ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তানকে নির্যাতনের অভিযোগ ঠাকুরগাঁও ভূল্লীতে চাঁদা না পাওয়ায় সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ, সংঘর্ষে উত্তেজনা। কুলিয়ারচরে ২ কেজি গাঁজাসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক জনগণের আস্থাই সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন, নির্যাতিতদের ডাটাবেজ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি জরুরি: ড. আসিফ মিজান নওগাঁ সদরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঈদ পুনর্মিলনী: সমস্যার কথা শুনলেন এমপি জাহিদুল ইসলাম ধলু আটোয়ারী উপজেলা হলরুমে এসএসসি পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক সভা রেলওয়ের সাবেক প্রকৌশলী রমজান আলীর দুর্নীতির পাহাড় : বরখাস্ত হলেও থামেনি তদন্ত তৃনমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সামিম আহমেদের সমর্থনে অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় মগরাহাট পশ্চিমে নওগাঁয় ভুয়া ‘প্লাটিনাম কয়েন’ প্রতারণা চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২টি নকল কয়েন

ঠাকুরগাঁও ভূল্লীতে চাঁদা না পাওয়ায় সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ, সংঘর্ষে উত্তেজনা।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: / ২৭ Time View
Update : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লী থানার বালিয়া ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক পাকাকরণ কাজে চাঁদা না পাওয়া এবং বালু ফেলা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং চলমান সড়ক নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভূল্লী থানাধীন ৫ নম্বর বালিয়া ইউনিয়নের বড় বালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে বড় বালিয়ার আঃ জব্বার মেম্বারের হাসকিং মিল থেকে মাস্টারপাড়া হয়ে ছোট বালিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গ্রামীণ সড়ক পাকাকরণের কাজ চলছিল। ঠিকাদার মোঃ আব্দুস সামাদ ও আবু বক্কর সিদ্দিকের তত্ত্বাবধানে প্রথমে রাস্তা খনন শেষে বালু ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়।

কিন্তু কাজের একপর্যায়ে বালু ফেলা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ উঠেছে, কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়। এ অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে বালু ফেলার কাজ চালিয়ে গেলে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে।

এদিকে, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কৃষক দলের ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি মোঃ হানিফ এবং বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল বাশারের নেতৃত্বে ৬ থেকে ৭ জন নেতাকর্মী বালু ফেলার কাজ বন্ধ করতে বালু উত্তোলনস্থলে যান। সেখানে তারা একটি এস্কেভেটর ও মহেন্দ্র ট্রাক্টরের চাবি জোরপূর্বক নিয়ে আসে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার পরপরই বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, যুবদল ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর প্ররোচনায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে চাবি উদ্ধারের দাবিতে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়।

সেখানে মোঃ হানিফ ও আবুল বাশার উপস্থিত থাকায় উভয়পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়, যা দ্রুত ধাক্কাধাক্কি এবং পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয়রা মোঃ হানিফকে একটি রিকশাভ্যানে তুলে নিয়ে গিয়ে চাবি উদ্ধারের চেষ্টা চালায় বলে জানা গেছে।

এদিকে, ৫ নম্বর বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, যুবদলের সভাপতি ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ দলীয় নেতৃবৃন্দের একটি অংশ মোঃ হানিফকে উদ্ধারের জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। এতে বিএনপির ভেতরেই দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে।

বর্তমানে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ ঘটনার জেরে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এদিকে, ঘটনার পর ভূল্লী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়েরের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category