নিজস্ব প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক বৈধতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর অবস্থান বহাল রয়েছে।
প্রেসক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ নজরুলসহ কয়েকজন নেতার অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশ। সহসভাপতি উকিল সেলিম চৌধুরী, চৌধুরী লোকমান ও অধীর বড়ুয়ার ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১৭ বছর ধরে একই নেতৃত্বের প্রভাব বজায় রয়েছে; নিয়মিত নির্বাচন, স্বচ্ছ কমিটি গঠন এবং ভিন্নমতের সাংবাদিকদের সদস্যপদ প্রদানের ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রেসক্লাবটি নিবন্ধিত কি না, বর্তমান কমিটির বৈধতা কী এবং সদস্য নির্বাচনের নীতিমালা কোথায়—এসব বিষয়ও জনসমক্ষে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাব নিয়ে আলোচনা ছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁদের ভূমিকা ও রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন কীভাবে ঘটল? কারা তাঁদের সাংগঠনিকভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন? সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেদের প্রভাব ধরে রাখছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।
এ ছাড়া বোয়ালখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি সিরাজ ইসলাম নাকি দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য মোঃ শওকত আলম শওকত কে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে তাঁর বাসায় পুলিশ পাঠানোর অভিযোগ বিশ্বস্ত সুত্রে জানতে পারি।
স্থানীয় সাংবাদিক মহলের প্রশ্ন—প্রেসক্লাব কি সব মত ও পথের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠান, নাকি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সংগঠন? এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্যও জনসমক্ষে আসা জরুরি।বোয়ালখালীর সিনিয়র বিএনপি নেতাদের প্রতি আহ্বান, প্রেসক্লাবের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, বর্তমান কমিটির বৈধতা, সদস্যপদ প্রদান ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করুন।
সাংবাদিকতার পরিচয়ে রাজনৈতিক পুনর্বাসন কিংবা দলীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকা উচিত নয়। প্রেসক্লাব কোনো রাজনৈতিক দলের পুনর্বাসনকেন্দ্র নয়; এটি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতিষ্ঠান। ১৭ বছরের নেতৃত্বের জবাবদিহি নিশ্চিত করে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে বোয়ালখালী প্রেসক্লাবকে প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার দাবি এখন সময়ের।