পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের উত্তর দেয়াং এলাকায় আদালতের জারিকৃত স্থিতাবস্থা (Status Quo) বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাতের অন্ধকারে ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পটিয়া থানার পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও বিবাদী পক্ষ তা কর্ণপাত করছে না বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আদালতের নির্দেশ
আদালত সূত্রে জানা যায়, পটিয়া উপজেলার উত্তর দেয়াং মৌজার বি.এস ৫১০ নং খতিয়ানের ১৫৩৫ দাগের ২.৫ শতক জায়গা নিয়ে স্থানীয় মৃত আব্দুল মালেকের পুত্র মো. আব্দুল আলিমের স্ত্রী আয়েশা বেগম বাদী হয়ে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা হাকিম আদালতে (মিচ মামলা নং ১৩৭৩/২৫ ইং) মামলা দায়ের করেন। গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিরোধীয় ভূমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি), পটিয়া সার্কেলকে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মামলার পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।
অভিযোগের বিবরণ বাদিনী আয়শা বেগম ও তার স্বামী মো. আব্দুল আলিম অভিযোগ করেন যে, মামলার বিবাদী আহমদুল হক গং আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপটে বেআইনিভাবে জনতা গঠন করে রাতের আঁধারে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিবাদী পক্ষ মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় দ্রুত ভবন নির্মাণের চেষ্টা করছে। কালারপোল ফাঁড়ির পুলিশ একাধিকবার নোটিশ দিলেও বিবাদী পক্ষ তা মানছে না।
আইনি বিশ্লেষণ: আদালত অবমাননার কঠোর শাস্তি আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের স্থিতাবস্থা বা নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। দেওয়ানী কার্যবিধি (Order 39, Rule 2A) এবং আদালত অবমাননা আইন অনুযায়ী এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে: সম্পত্তি ক্রোক: আদালতের আদেশ অমান্য করলে বিবাদীর সম্পত্তি সাময়িকভাবে ক্রোক করার বিধান রয়েছে। দেওয়ানী কারাদণ্ড: আদেশ ভঙ্গকারী ব্যক্তিকে আদালত ৬ মাস পর্যন্ত দেওয়ানী কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিতে পারেন।স্থাপনা উচ্ছেদ: আদালতের আদেশ অমান্য করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হলে, পরবর্তীকালে তা নিজ খরচে ভেঙে ফেলার আদেশ দেওয়া হয়। জরিমানা ও দণ্ড: আদালত অবমাননার জন্য সুনির্দিষ্ট মেয়াদে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিবাদী পক্ষের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে এবং আদালতের সম্মান রক্ষার্থে তারা চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার ও পটিয়া সার্কেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।