মোঃপনির খন্দকার
স্টাফঃ রিপোটার
প্রতিশ্রুতির পথে কালীগঞ্জে উন্নয়নের ছোঁয়া, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-সড়কে একাধিক প্রকল্প
‘কথা দিয়ে নয়, কাজ দিয়ে উন্নয়নের প্রমাণ দিতে চাই’—এমপি ফজলুল হক মিলন
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গাজীপুরের কালীগঞ্জে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং যুব কর্মসংস্থান খাতে একাধিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন।
উপজেলার নাগরী এলাকার স্বপ্ন কানন রিসোর্টে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় ফজলুল হক মিলন বলেন, “আমি উন্নয়নের কথা বলি কাজ দিয়ে, কথা দিয়ে নয়। কালীগঞ্জের উন্নয়নের ইতিহাস খুঁজে দেখুন—সবখানে আমাকে পাবেন।”
তিনি বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৩ কোটি টাকার উন্নয়নকাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে মসলিন কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে চারতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং কালীগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জুগলী উচ্চ বিদ্যালয়, জামালপুর রাজমোহন বিদ্যাপীঠ, চুপাইর বালিকা বিদ্যালয়, ভাইয়াসুতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কালীকুটি দাখিল মাদ্রাসার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের কথা তুলে ধরেন তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি উপজেলার ৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড, শিক্ষা উপকরণ, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সরঞ্জাম এবং পানির ফিল্টার বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান এমপি মিলন। একই সঙ্গে অস্বচ্ছল মেধাবী ১৫৭ শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল এবং ১৫০ জন দুঃস্থ নারীকে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কালীগঞ্জে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে মোক্তারপুর ইউনিয়নে হাসেম শেখের বাড়ি থেকে সোলায়মানের টেক মসজিদ পর্যন্ত সড়ক এইচবিবিকরণ, মাঝুখান থেকে কালীগঞ্জ দৃষ্টিনন্দন সড়ক এবং জামালপুর ইউনিয়নের জাঙ্গালীয়া জিসি থেকে জামালপুর জিসি হয়ে দোলন বাজার সড়ক উন্নয়ন।
সামাজিক ও মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ২০টি পরিবারকে ছাগল এবং ১০টি পরিবারকে গৃহনির্মাণসামগ্রী দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া ৮৩টি মসজিদ, মন্দির, গির্জা, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ১ কোটি ৭০ হাজার টাকার চেক বিতরণ এবং উপজেলার ১৯টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ১৯ টন চাল দেওয়ার কথা তুলে ধরেন এমপি।
স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে ফজলুল হক মিলন বলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান ৫০ শয্যার সক্ষমতা বাড়িয়ে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। হাসপাতালটিতে এমআরআইসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি আনার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
যুব কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যুব সমাজই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।” শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, কর্মমুখী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা গেলে কালীগঞ্জের হাজারো তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এসব কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও উন্নত কালীগঞ্জ গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
সভায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার, সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলুসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।