• রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
Headline
সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াই খাজনা আদায়! বদলগাছী সদর হাট নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির অভিযানে পাথর ও ভারতীয় যন্ত্রাংশসহ আটক ১ সৈয়দপুরে জমি সংক্রান্ত জেরে হামলা অতঃপর মামলা! মামলা তুলে নিতে বাদিকে প্রাণনাশের হুমকি বদলগাছীতে জায়গা-জমি নিয়ে রক্তাক্ত সংঘর্ষ,থানায় লিখিত অভিযোগ দোগাছী গ্রামে টেকনিক্যাল স্কুলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০৭ পিস ভারতীয় যানবাহনের যন্ত্রাংশ জব্দ আদমদীঘিতে ষষ্টী পুজা ও জামাই ষষ্টী উৎসব পালন পঞ্চগড়ে মেডিকেল কলেজ ও আইএইচটি প্রতিষ্ঠার ঘোষণায়, সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির এমপি সংবাদ প্রকাশের জেরে জাতীয় সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা: বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ। নওগাঁয় ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার, মামলা দায়েরের ৯ ঘণ্টার মধ্যেই র‍্যাবের অভিযান

সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াই খাজনা আদায়! বদলগাছী সদর হাট নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল

মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি: / ৫৫ Time View
Update : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:

নওগাঁর বদলগাছী সদর হাট ও বাজারে সরকারি খাস খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং সরকারি রাজস্ব লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের দাবি, সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল খাজনা আদায় করছে। এতে সরকারের প্রকৃত রাজস্ব আদায় এবং অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অধিগ্রহণকৃত (গভঃ একোয়ার্ড স্টেট) বদলগাছী সদর হাট ও বাজার খাস আদায়ের আওতাভুক্ত হলেও উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর তদারকির অভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের লোকজন খাজনা আদায় করছেন। ফলে হাট পরিচালনা ও খাজনা আদায়ের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু রাইহান গিটারের অনুসারীরা হাটে বিভিন্ন খাত থেকে খাজনা আদায় করছেন। তবে হাটের কোথাও সরকার নির্ধারিত খাজনার হার বা টোল রেটের তালিকা টানানো হয়নি। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি খাজনা আদায় করা হচ্ছে এবং আদায়কৃত অর্থের সরকারি হিসাব নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।

এদিকে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে ৪০ কেজিতে এক মণ হিসেবে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের প্রচলন থাকলেও বদলগাছী সদর হাটে ৪২ থেকে ৪৩ কেজিতে এক মণ ধরা হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রতি মণে ২০ টাকা করে খাজনা আদায় করা হচ্ছে, যা কৃষকদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

কৃষক মহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,

“আমার কাছ থেকে ৪২ কেজিতে এক মণ ধরা হয়েছে এবং প্রতি মণে ২০ টাকা খাজনা নেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য তালিকা না থাকায় তারা ইচ্ছামতো খাজনা আদায় করছে।”

আরেক কৃষক আব্দুল মতিন বলেন,

“পণ্যের দাম কম, অথচ ৪২ কেজিতে মণ ধরে খাজনা নেওয়া হচ্ছে। ভ্যানভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিটিয়ে উৎপাদন খরচই উঠছে না। আমরা লোকসানের মধ্যে আছি।”

খাজনা আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবু আল আশারী নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান,

“হাটটি খাস আদায়ের আওতায় রয়েছে। তবে আবু রাইহান গিটার অফিস থেকে লীজ নিয়েছেন বলে আমরা জেনেছি।”

তবে এ বিষয়ে আবু রাইহান গিটারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে সাক্ষাতে কথা বলবো।” এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে খাজনা আদায়ের সময় কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উপস্থিতি ছিল না। অথচ রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে খাজনা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কোথাও সরকার নির্ধারিত খাজনা বা মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হয়নি।

এ বিষয়ে খাস আদায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বলেন,

“আমি ছোট কর্মচারী। খাস আদায় এবং চার্ট টানানোর বিষয়ে ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জানাতে পারবো।”

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন বলেন,

“হাট-বাজার ইজারা ও খাস আদায় সংক্রান্ত বিষয়গুলো ইউএনও অফিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয়ই বিস্তারিত বলতে পারবেন।”

অন্যদিকে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন,

“বদলগাছী সদর হাট ও বাজারে খাস খাজনা আদায় করা হচ্ছে। খাজনা আদায়ের সময় সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি ছিল না।”

বিএনপি নেতা-কর্মীদের খাজনা আদায় ও হাট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

“এ ধরনের ঘটনা ঘটার কোনো সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে আমার জানা নেই।”

তিনি আরও জানান, খাস আদায়ের দায়িত্বে সহকারী তহশিলদার রয়েছেন এবং আগামী মাসের মধ্যে হাটে সরকার নির্ধারিত মূল্য তালিকা টানানোর ব্যবস্থা করা হবে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নামমাত্র অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেখিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ অথবা অনিয়মের মাধ্যমে বণ্টন করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ অবস্থায় বদলগাছী সদর হাটে খাস খাজনা আদায়, সরকারি রাজস্ব জমা এবং হাট পরিচালনার সার্বিক বিষয় তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category