পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী এলাকায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ইট সোলিং রাস্তা নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণকাজ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোখলেছার রহমান মাস্টারের বাড়ি থেকে পূর্ব দিকে তামজিদুল ইসলামের বাড়ি সংলগ্ন পাকা রাস্তা পর্যন্ত নির্মিত ইট সোলিং সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে যাওয়া, দেবে যাওয়া এবং ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একাধিক স্থানে ইট সরে গেছে এবং অনেক অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন করেছে, ফলে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তনবিরুল ইসলাম বলেন, রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার পর প্রথম দিকেই বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যায়। এরপর আর কেউ খোঁজ নেয়নি। বরং আমাদের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই হয়েছে। বর্তমানে আমরা নিজেরাই ভাঙা অংশ মেরামতের চেষ্টা করছি।
আরেক বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তার কাজ মোটেও মানসম্মত হয়নি। আমি এই রাস্তার নাম দিয়েছি ‘চোরের রাস্তা’ কেন এমন নাম দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই প্রকল্পে লাভ হয়েছে ঠিকাদার, ইটভাটা মালিক এবং সংশ্লিষ্টদের। সাধারণ মানুষ কোনো সুফল পায়নি বলেই আমি এমন নাম দিয়েছি।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রকল্পের কাজ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনরায় মানসম্মতভাবে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী শাহরিয়ার রহমান শাকিল বলেন, “রাস্তার কাজ পরিদর্শনের সময় সন্তোষজনক মনে হয়েছিল। তবে নতুন করে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির কাজ ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন দেলু সম্পন্ন করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেছি। মূল ঠিকাদার তেঁতুলিয়ার। বিস্তারিত জানতে হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বর্তমানে আমি বাইরে আছি, পরে এ বিষয়ে কথা বলা যাবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অনিয়মের কারণে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হয়ে বরং ভোগান্তি বেড়েছে। তাই দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।