মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন মো. নাইম হোসেন (২৮)। তিনি বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার নামা পোওতা গ্রামের বাবুর ছেলে। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন, ৩টি সক্রিয় সিম এবং বিভিন্ন কোম্পানির মোট ৩৮টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে এক ব্যক্তি নিজেকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবসায়ীকে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যবসায়ীর ওষুধ সেবন করে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং মামলা এড়াতে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। ভয়ভীতির মুখে ওই ব্যবসায়ী নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ২০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠান।
এছাড়া গত ৩০ মে একই ব্যক্তি নিজেকে সিআইডির এসপি জাহিদ পরিচয় দিয়ে এক বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীকে ফোন ও বার্তা পাঠিয়ে অভিযোগ করেন যে, তার দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন হয়। মামলা না করতে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জেলা গোয়েন্দা শাখা ও আইসিটি শাখাকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় ডিবির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে সান্তাহার এলাকা থেকে নাইম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইম হোসেন স্বীকার করেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কখনো পুলিশ সুপার, কখনো থানার ওসি, কখনো জেলা প্রশাসক (ডিসি) কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি তার প্রতারণা চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।