• রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
Headline
সৈয়দপুরে জমি সংক্রান্ত জেরে হামলা অতঃপর মামলা! মামলা তুলে নিতে বাদিকে প্রাণনাশের হুমকি বদলগাছীতে জায়গা-জমি নিয়ে রক্তাক্ত সংঘর্ষ,থানায় লিখিত অভিযোগ দোগাছী গ্রামে টেকনিক্যাল স্কুলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০৭ পিস ভারতীয় যানবাহনের যন্ত্রাংশ জব্দ আদমদীঘিতে ষষ্টী পুজা ও জামাই ষষ্টী উৎসব পালন পঞ্চগড়ে মেডিকেল কলেজ ও আইএইচটি প্রতিষ্ঠার ঘোষণায়, সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির এমপি সংবাদ প্রকাশের জেরে জাতীয় সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা: বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ। নওগাঁয় ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার, মামলা দায়েরের ৯ ঘণ্টার মধ্যেই র‍্যাবের অভিযান পাওনা টাকা চাওয়ায় নারীদের শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকি, প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয়

নওগাঁর পত্নীতলার মহেশপুর জুনিয়র স্কুলে চার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে  অনিয়মের অভিযোগের পাহাড়

মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি: / ৯৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার মহেশপুর জুনিয়র স্কুল (৬ষ্ঠ-৮ম, EIIN-134294)-এ চার শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, জালিয়াতি এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে পুরোনো তারিখের (ব্যাকডেট) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও ম্যানেজিং কমিটির নথি ব্যবহার করে চারজন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বর্তমান কর্মচারী এবং সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর ওই চার শিক্ষক এমপিও সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সাধারণ গণিত বিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত আহমেদ আউয়ালের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া শরীরচর্চা বিষয়ে সেলিম পারভেজ, কাব্যতীর্থ পদে বুলবুলি রানী এবং কৃষি ডিপ্লোমাধারী কাঞ্চন কুমারও নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের কারও জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সনদ নেই।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ২০১১ সাল থেকে পরিচালিত অনলাইন ব্যানবেইজ জরিপ, বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা এবং স্থানীয়দের সাক্ষ্য অনুযায়ী এসব শিক্ষক ২০১৫-১৬ সালের আগে বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন না। পরে ব্যাকডেটের নথি ব্যবহার করে তাদের নিয়োগ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক সামসুল আলম মিলন, আব্দুল জলিল, শ্রী দিবাকর ও আলমগীর কবিরসহ সাবেক ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অভিযোগের বিভিন্ন বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক কর্মচারী বলেন, “আমার জানা মতে অভিযোগে উল্লেখিত চারজন শিক্ষককে ২০১৫ সালের আগে কখনো বিদ্যালয়ে দেখিনি। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না।”

একাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী জানান, তারা ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন। ওই সময়ে অভিযোগে উল্লেখিত শিক্ষকদের কাউকেই বিদ্যালয়ে পাঠদান করতে দেখেননি। তাদের মতে, যদি পূর্বে কর্মরত না থেকেও ব্যাকডেটের নথির মাধ্যমে নিয়োগ দেখানো হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।

এদিকে নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ এবং অডিট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক সঞ্জয় চন্দ্র মণ্ডল সম্প্রতি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাইসহ নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন।

তদন্তকে প্রভাবিত করতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে। কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে এবং তদন্ত কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করার কথা বলা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো লিখিত বা প্রামাণ্য দলিল পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শিক্ষা পরিদর্শক সঞ্জয় চন্দ্র মণ্ডল বলেন, “নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ এবং অডিট—দুই বিষয়েই তদন্ত করেছি। প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। সেগুলো পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”

অর্থ লেনদেন বা তদন্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো বিষয়ে আমার সঙ্গে কারও কথা হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দেখব।”

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি প্রতিবেদককে বিদ্যালয়ে এসে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানান। তবে অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি যোগ্য ও নিবন্ধিত শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category