মোঃপনির খন্দকার
স্টাফঃ রিপোটার।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ গাজীপুর জেলা সভাপতি পীরে তরিকত আল্লামা অধ্যক্ষ মো. ফখরুল ইসলাম নক্শবন্দী ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. আল-আমিন দেওয়ান আল-আবেদী এবং কালীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আবু তাহের খান মো. আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক মো. মেজবাহ উদ্দিন এক যুক্ত বিবৃতিতে সম্প্রতি তৌহিদী জনতার নামে ঢাকা মিরপুর হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহ.) এর মাজারে ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন- মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের কয়েক শ বছর প্রাচীন শাহ আলী বোগদাদির (রহ.) মাজারে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে জলসা বসে। সেখানে ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই পীরের ভক্তরা আসেন। বৃহস্পতিবার রাতে সেই জলসা চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোঁটা হাতে ও মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক পরা একদল লোক এসে মাজার জিয়ারতকারী ও অনুসারীদের মারধর শুরু করে কথিত একদল তৌহিদী জনতা। এ সময় ভক্ত ও অনুসারীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি করেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ভক্ত অনুসারীদের পিটিয়ে বের করে দেয়। এ সময় কয়েকজন আহত হন।
৫ আগস্ট পরবর্তী এ কথিত তৌহিদী জনতা মব সৃষ্টি করে শতাধিক মাজারে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করেছে। শুধু তাই নয়, এ জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী কবর থেকে লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে লাশের উপর দাড়িয়ে উল্লাস করেছে। যা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। এরা ইসলামের উর্দি পরিহিত হয়ে খুন, গুমসহ নানাবিধ গর্হিত কাজের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী ইসলাম ধর্মকে একটি সন্ত্রাসী ধর্ম হিসেবে চিহ্নিত করতে চায়। নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজের’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ১৭ মাসে সারাদেশে অন্তত ৯৭টি মাজার ও এ সম্পর্কিত স্থাপনায় (দরগাহ ও খানকাহ) হামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও অনুসন্ধানে ৩৭টির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হামলার দুই-তৃতীয়াংশই ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে কুমিল্লা, নরসিংদী ও ঢাকায়; যথাক্রমে ১৭, ১০ ও ৯টি। সারাদেশে হামলার ঘটনাগুলোয় তিনজন নিহত এবং ৪৬৮ জন আহত হয়েছেন।