স্টাপ রিপোর্টার
তাজলিমা খাতুন
জেফ্রি এপস্টেইন কাণ্ড আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে-মেয়ে শিশুরা শুধু পাচার হয়ে আসত না, অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধার আশায় মা-বাবারাই তাদের তুলে দিত।
প্রশ্ন হলো, তারা কি জানত না কী হতে পারে?
জানত। তবু লোভ, ক্ষমতা আর সুবিধার মোহে নীরব থেকেছে।
পাশ্চাত্যে দীর্ঘদিন ধরে বিকৃত মানসিকতার চর্চা যে কতটা গভীরে ঢুকে গেছে, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তার উদাহরণ।
যে যে দেশে তথাকথিত “পাশ্চাত্য সভ্যতা” সবচেয়ে বেশি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেখানেই এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি বেশি দেখা যায়-এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।
অন্যান্য অনেক জাতিগোষ্ঠী হয়তো প্রযুক্তি বা শক্তিতে পিছিয়ে ছিল, কিন্তু শিশুদের নিয়ে এমন অসভ্যতা তাদের সমাজে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ছিল না।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো-বিশ্ব-মোড়লদের এসব কুকীর্তি একের পর এক উন্মোচিত হলেও এদেশের কিছু তথাকথিত ‘সুশীল’ এখনো অদ্ভুত পক্ষপাতিত্বে অন্ধ।
এপস্টেইন নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত বলে যাদের নাম অভিযোগের তালিকায় এসেছে-সেসব নাম সামনে আসতেই তারা নীরব, কেউ কেউ আবার উল্টো ধর্মকে টেনে এনে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
যাদের আদর্শ, চিন্তা আর শাসনের দিকে তাকিয়ে আমাদের এতদিন ডাক দেওয়া হতো-আজ তারাই মুখে কুলুপ এঁটেছে।
এটাই কি সেই নৈতিকতার মানদণ্ড?
সত্য যতই অস্বস্তিকর হোক, প্রশ্ন তোলা বন্ধ করলে অন্যায় আরও শক্তিশালী হয়।
এই নীরবতাই সবচেয়ে বড় অপরাধ।
–
সত্য চাপা দিলে মিথ্যা সভ্যতা টিকে যায়। প্রশ্ন তুললে মুখোশ খুলে পড়ে।
মর্নিং ডট বিডি নিউজ।