মুজাহিদ হোসেন, বিশেস প্রতিনিধিঃ
বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ‘কৃষক কার্ড’ চালু, নওগাঁয় হিমাগার ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নসহ কৃষি ও কর্মসংস্থানভিত্তিক একগুচ্ছ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের এটিএম মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ যার পাশে থাকে, তাকে কেউ আটকাতে পারে না। জনগণের সমর্থন থাকায় বিএনপিকে থামানো যায়নি। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এখানে এসে শুধু দাবি আর দাবি শুনছি—তাহলে গত ১৭ বছরে কী হয়েছে? আমরা এই দেশেই থাকবো, তাই এই দেশের উন্নয়ন আমাদেরই করতে হবে।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি জয়পুরহাট জেলার দুইটি ও নওগাঁ জেলার ছয়টি আসনের মোট আটজন বিএনপি প্রার্থীকে জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাঁদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
নওগাঁকে দেশের ‘ধানের ভাণ্ডার’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরেন্দ্র প্রকল্প চালুর মাধ্যমে বছরে তিন ফসল উৎপাদনের সূচনা হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে। কৃষিই এ অঞ্চলের প্রধান পেশা হওয়ায় কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি ‘কৃষক কার্ড’ চালু করে ফসল উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সহায়তা সহজলভ্য করা হবে, যাতে কৃষকের আর্থিক ভিত্তি শক্ত হয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ে।
আম উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত নওগাঁ জেলায় হিমাগারের অভাবের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দ্রুত পরিবহন নিশ্চিত করতে সান্তাহার–নওগাঁসহ রেল যোগাযোগ উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে স্বল্প খরচে ও স্বল্প সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আম পাঠানো সম্ভব হয়।
নারী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, মেয়েদের পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হবে, যাতে খেলোয়াড় হিসেবেও তারা দেশ ও জাতির জন্য সুনাম বয়ে আনতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষিত তরুণদের জন্য কৃষিভিত্তিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। শিল্পকারখানা স্থাপনকারীদের স্বল্পসুদে ঋণ, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ তরুণদের জন্য আলাদা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট খতিব ও মোয়াজ্জেমসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের জন্যও বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখনো ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ভোটের দিন কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকাকেন্দ্রিক মেগা প্রকল্প নয়—গ্রাম ও শহরের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নই বিএনপির লক্ষ্য। জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের ত্যাগের কারণেই ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপনের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী শামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী ডা. ইকরামুর বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম, জয়পুরহাট-১ আসনের প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ও জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল বারী।
এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও নওগাঁ পৌরসভার সাবেক মেয়র নজমুল হক সনি এবং রাজশাহী বিভাগের নেতা ওবায়দুল হক চন্দন বক্তব্য দেন।
সভায় নওগাঁকে কৃষিপ্রধান জেলা হিসেবে আরও এগিয়ে নিতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগার স্থাপন, সান্তাহার–নওগাঁ–চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেল যোগাযোগ উন্নয়ন, অবহেলিত কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কার, নওগাঁ শহরের চার লেন সড়ক বাস্তবায়ন এবং জেলায় গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি তুলে ধরেন বিএনপি প্রার্থীরা।
সবশেষে নওগাঁকে ধানের শীষের ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার সব আসনে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত