তাজমিনুল তরুন:
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া এলএসডি (Local Supply Depot) সরকারি খাদ্য গুদামে অবৈধভাবে মজুদ করা সাড়ে ৩ মেট্রিকটন চাল উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো—এ চালের কোনো ‘মালিক’ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে বড় প্রশ্ন উঠেছে—এই চাল সরকারি গুদামে ঢুকল কীভাবে, আর দায় নেবে কে?
দুদকের অভিযানের সময় গুদামের ভেতর সরকারি মজুদের বাইরে আলাদা করে রাখা এই চালের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। চালের সঙ্গে কোনো বৈধ কাগজপত্র, চালান বা মালিকানা সংক্রান্ত নথি দেখাতে পারেনি গুদাম কর্তৃপক্ষ। পরে বিষয়টি তদন্তের আওতায় নেয় দুদক।
❝মালিক নেই, কিন্তু গুদামে কীভাবে?❞
খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, সরকারি গুদামে প্রতিটি কেজি চাল প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট রেকর্ড, চালান ও হিসাব থাকার কথা। সেখানে ‘মালিকবিহীন’ চাল পাওয়া মানে হয় তা অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে, নয়তো সরকারি চাল গোপনে সরিয়ে রেখে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষো”ভ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—যদি চালের মালিক না থাকে, তবে গুদামের ভেতরে এটি রাখার অনুমতি কে দিল?
❝দায় এড়াতে পারবে কি গুদাম কর্তৃপক্ষ?❞
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি গুদামে পাওয়া যেকোনো অবৈধ চালের দায় সরাসরি গুদাম কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়। কারণ, গুদামের ভেতরে কী ঢুকছে আর কী বের হচ্ছে—তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপরই থাকে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা ও সম্ভাব্য দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
❝বড় দু’র্নী’তি’র ইঙ্গিত?❞
স্থানীয়দের মতে, ‘মালিকবিহীন চাল’ আসলে বড় ধরনের খাদ্য মজুদ ও পাচার চক্রের ইঙ্গিত দিতে পারে। সরকারি খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এমন অনিয়ম প্রমাণিত হলে তা সাধারণ মানুষের জন্য বড় হু’ম’কি হয়ে দাঁড়াবে।
এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত রহস্য উদঘাটন না হলেও, রুহিয়া এলএসডি গুদামের এই ঘটনা ইতোমধ্যেই খাদ্য বিভাগের স্বচ্ছতা ও জ’বা’ব’দি’হি’তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।