মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় এক ভূমি অফিস কর্মচারীর বিরুদ্ধে নামজারি (খারিজ) করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ৮ মাসেও কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ভুক্তভোগীকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মোঃ মোতালেব হোসেন ২০২৫ সালের জুলাই মাসে পৈত্রিক সম্পত্তির খাজনা পরিশোধ করতে উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। সেখানে উপস্থিত কর্মচারীরা তাকে জমির নামজারি (খারিজ) করার পরামর্শ দেন।
এ সময় উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহকারী (বর্তমানে উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত) মোঃ রাসেল দ্রুত নামজারি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে মোট ১৪ হাজার ৫০০ টাকা নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে প্রথমে ৭ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন খরচের কথা বলে আরও ৭ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না করে প্রায় ৮ মাস ধরে বিভিন্নভাবে ঘোরাঘুরি করানো হয় ভুক্তভোগীকে। পরে তিনি উপজেলা ভূমি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার জমির নামজারি এখনও সম্পন্ন হয়নি।
পরবর্তীতে গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর মৌখিক অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত কর্মচারীকে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মহাদেবপুর সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মোতালেব হোসেনকে ১০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে এখনও ৪ হাজার ৫০০ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এছাড়াও অভিযুক্ত রাসেলের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর ভূমি অফিসে গিয়ে অভিযুক্ত রাসেলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মহাদেবপুর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা জান্নাতুন নাইম বিনতে আজিজ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।