মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ঘন কুয়াশা ও কনকনে শৈত্যপ্রবাহে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বুধবার ভোর থেকেই পুরো উপজেলা ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে পড়ে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে হাড় কাঁপানো শীতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে প্রকৃত অনুভূত তাপমাত্রা আরও কমে গেছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শীতের তীব্রতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, রিকশা ও ভ্যানচালকরা। কাজের অভাবে অনেকেই দিনভর ঘরে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। শীতের কারণে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, এতে ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম সংকটে।
ঘন কুয়াশার কারণে সকালবেলায় সড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। অনেক যানবাহন বাধ্য হয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। চিকিৎসকরা শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের উষ্ণ পোশাক ব্যবহারের পাশাপাশি অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে নিম্নআয়ের মানুষজন খড়কুটো, লাকড়ি ও পুরনো কাপড় জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। তবে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক দরিদ্র মানুষ চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় নিম্নআয়ের বাসিন্দারা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে শীতের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।