নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ—বিএনপির দুঃসময়ের রাজনীতিতে ত্যাগ, মামলা-হামলা ও প্রতিকূলতার এক আলোচিত নাম। দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় তাঁর জীবন-যৌবনের বড় একটি সময় কেটেছে আদালতপাড়া, কারাগার আর মামলার বোঝা টানতে টানতে। তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫০টি গায়েবি মামলার আসামি হয়ে পার করেছেন কঠিন সময়। সংসার, ব্যক্তিগত জীবন ও স্বাভাবিক জীবনের আনন্দও যেন রাজনীতির সংগ্রামে বিসর্জন দিতে হয়েছে। অথচ দীর্ঘ এই ত্যাগের পরও দলীয় মূল্যায়নে তিনি কতটা গুরুত্ব পেয়েছেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সাবেক ছাত্রনেতাদের অনেকের মধ্যেও রয়েছে এ নিয়ে আক্ষেপ ও আলোচনা।
সম্প্রতি তাঁর ফেসবুকের একটি আবেগঘন পোস্ট যেন দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিমান ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিচ্ছবি। তিনি লিখেছেন, উপরে ওঠার লোভে নয়, বরং যে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠেছেন, সেই নিচের সিঁড়ির দিকে তাকিয়েই তিনি প্রশান্তি খুঁজে পান। তাঁর উপলব্ধি—লোভ ও প্রতিহিংসা মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়; তিনি ধ্বংস হতে চান না।
এখানেই প্রশ্ন—দলের দুঃসময়ে যারা মামলা, হামলা ও কারাবরণের ঝুঁকি নিয়েছেন, সুসময়ে তাঁদের অবস্থান কোথায়? রাজনীতিতে কি ত্যাগের চেয়ে পদ-পদবি ও ক্ষমতার সমীকরণ বড় হয়ে উঠছে? গাজী সিরাজ উল্লাহর এই বক্তব্য কি নিছক ব্যক্তিগত অভিমান, নাকি দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ? সময়ই দেবে উত্তর। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না হলে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।