মুজাহিদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আইন ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য করাতকল (স'মিল)। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত এসব স'মিল থেকে একদিকে যেমন নির্বিচারে গাছ কেটে পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে, অন্যদিকে শব্দ ও বায়ুদূষণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক স'মিল গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব স'মিলের অনেকগুলোরই বৈধ লাইসেন্স নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর অভিযান না থাকায় অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।
করাতকল (লাইসেন্স) বিধিমালা, ২০১২ অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত পূরণ ছাড়া করাতকল স্থাপন ও পরিচালনা করা যায় না। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিকটে স'মিল স্থাপনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বদলগাছী উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালের সামনেই একটি স'মিল পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বদলগাছী কেন্দ্রীয় কালী মন্দির ও লাবণ্য প্রভা গার্লস স্কুলের কাছেও একাধিক স'মিল রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব স'মিলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ নির্বিচারে কেটে আনা হচ্ছে। এতে সবুজের পরিমাণ দ্রুত কমে যাচ্ছে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। পরিবেশ সচেতনদের মতে, এভাবে গাছ নিধন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।
এদিকে স'মিলের বিকট শব্দ ও কাঠের গুঁড়োর কারণে আশপাশের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে হাসপাতালের রোগী, শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বাড়ছে। কৃষকদের অভিযোগ, কাঠের গুঁড়ো ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়ে কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফরিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, উপজেলা হাসপাতালের সামনে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে স'মিল পরিচালিত হওয়ায় রোগী, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা নানা সমস্যায় পড়ছেন। পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ স'মিলগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।
পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, উপজেলার সব স'মিলের লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও কাঠের বৈধ উৎস যাচাই করে অবৈধভাবে পরিচালিত করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় বদলগাছীর পরিবেশ ও বনজ সম্পদ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলার বন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) খাইরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় লাইসেন্সবিহীন বা অবৈধভাবে পরিচালিত করাতকলের বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব করাতকলের বৈধ লাইসেন্স নেই বা বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।