শাহীন সুলতানা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের পৌর এলাকা খরকমারা মহল্লায় ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। মাদকাসক্ত নাতিদের অত্যাচারে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন ৬৫ বছর বয়সী মর্তুজা বেগম।
শনিবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন মর্তুজা বেগম। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত নাতিদের অত্যাচারের শিকার ছিলেন তিনি। সংসারে অভাব ছিল, তবুও মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন চালিয়েছেন। বয়সের ভারে কাজ করতে না পারায় ভিক্ষা করে কোনো রকমে বেঁচে ছিলেন। অথচ সেই সামান্য উপার্জনের টাকাও কেড়ে নিতে চাইত তারই নাতিরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পারলেই নাতিরা তাকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করত। ঘটনার আগের রাতেও টাকার জন্য তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অসহায় বৃদ্ধা বারবার বলেছিলেন, আর অত্যাচার সহ্য করতে না পারলে তিনি ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে জীবন শেষ করে দেবেন। কিন্তু কেউ হয়তো ভাবেনি, সেই কথাই একসময় বাস্তবে পরিণত হবে।
সকালে বিচার চেয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন মর্তুজা বেগম। নিজের কষ্টের কথা বলেছেন, সাহায্য চেয়েছেন। কিন্তু ভাগ্য যেন তার প্রতি নির্মমই ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছুটে গিয়ে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন তিনি। মুহূর্তেই নিভে যায় এক মায়ের, এক নানীর জীবনপ্রদীপ।
নিহতের স্বজনদের দাবি, মাদকের টাকার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতন এবং সামাজিক চাপ তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই মৃত্যু শুধু একজন বৃদ্ধার মৃত্যু নয়, এটি আমাদের সমাজের জন্য এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা।